নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
গ্যাস না পেয়ে চট্টগ্রাম মহানগরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শত শত সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোর থেকে নগরীর ষোলশহর এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন সিএনজি অটোরিকশা চালকরা। এতে কালুরঘাট-বিমান বন্দর সড়কের মুরাদপুর থেকে দুই নম্বর গেইট পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বহদ্দারহাট থেকে অন্য সড়কে জিইসির মোড় হয়ে এই সড়কে এখন যানবাহন চলাচল করছে।
সিএমপির পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহেদুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনের সামনে গ্যাসের জন্য কয়েকশ সিএনজি অটোরিকশা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। গ্যাস না পেয়ে ক্ষুব্ধ চালকরা একপর্যায়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন।
সড়ক অবরোধের কারণে সকাল থেকেই মুরাদপুর, ষোলশহর ও দুই নম্বর গেইট এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে চালকদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করছে। তবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত সড়ক ছাড়তে রাজি নন বিক্ষুব্ধ চালকরা।
অবরোধকারী চালকদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম মহানগরীর সবকটি ফিলিং স্টেশনেই গ্যাস নেই। ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ফিলিং স্টেশনের সামনে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে গ্যাস পাননি। কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়েও স্টেশন কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছে না।
নাজিম উদ্দিন নামে এক চালক বলেন, ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গাড়ি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। গ্যাস না পাওয়ায় গাড়ি চালাতে পারছি না। কখন গ্যাস পাব, সেটাও কেউ বলতে পারছে না। এভাবে দিনের পর দিন বসে থাকলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব?
বশির উদ্দিন নামে এক বিক্ষুব্ধ চালক বলেন, চট্টগ্রাম শহরের সব ফিলিং স্টেশনে একই অবস্থা। কোথাও গ্যাস নেই, আবার কোথাও গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইন। কর্তৃপক্ষ যদি সংকটের সমাধান করতে না পারে, তাহলে আমাদের রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় সিএনজিতে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদেরও কিছু করার নেই। গ্যাসের সংকটে শুধু তাদের আয়-রোজগারই বন্ধ হয়নি, ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরাও।
স্থানীয়রা জানান, চলতি মাসের শুরু থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীর সবকটি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। এই পরিস্থিতিতে সড়কে সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা কমে গেছে। ফলে যাত্রীদেরও তিনগুণ বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। আর গত তিন দিন ধরে গ্যাস না পাওয়ায় সিএনজি অটোরিকশা বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
প্রতিনিধি/এফএ