Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

মায়ের সামনে গাছের সঙ্গে বেঁধে কিশোরকে নির্যাতন, গ্রেফতার এক

জেলা প্রতিনিধি

১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১২ এএম

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহে মো. তারেক ঢালী (১৭) নামের এক কিশোরকে মায়ের সামনে গাছের সঙ্গে বেঁধে কয়েক ঘণ্টা ধরে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

নারিকেল গাছের ডাল দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি তার মাথায় গামছা বেঁধে গরম পানি ঢেলে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আহত কিশোরের মা। গুরুতর আহত তারেক বর্তমানে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ঘটনার পর বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সফিক প্রধান (৩৫) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোরে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর দক্ষিণ পাড়ার প্রধানীয়া বাড়ির কয়েকজন তারেককে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যান। পরে ওই বাড়িতে নিয়ে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে সন্দেহের বশে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।

আহত তারেকের মা খুকী বেগম অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ১২ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর দুই ছেলেকে নিয়ে অনেক কষ্টে সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি। ঘটনার দিন ভোর ৫টার দিকে কোনো কারণ না জানিয়ে সফিক, আল-আমিন, তানিম ও মোতালেব প্রধান তার ছেলেকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান।

2ab89f24-6e13-4bcc-b57e-82a77e5e76e8

খুকী বেগম জানান, প্রধানীয়া বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর মোবাইল ফোন চুরির কথা বলে তার ছেলেকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নারিকেল গাছের ডাল দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মাথায় গামছা বেঁধে গরম পানি ঢেলে দেওয়া হয়। থেমে থেমে কয়েক ঘণ্টা ধরে তাকে নির্যাতন করা হয়। উপস্থিত লোকজনের সামনে এ ঘটনা ঘটলেও কেউ তার ছেলেকে নির্যাতনকারীদের হাত থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয় সোবহান ঢালী, মো. রাকিব প্রধান, শরীফুল ইসলাম ও নবী উল্লাহ পাটোয়ারী বিকেলের দিকে তারেককে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে খুকী বেগম বলেন, আমি গরিব মানুষ। টাকার অভাবে ছেলের ভালোভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমার ছেলে কোনো অপরাধ না করেই মারধরের শিকার হয়েছে। যারা এভাবে আমার ছেলেকে নির্যাতন করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।

3b94243c-edb3-4fff-9972-5763b2a30a13

স্থানীয় নবী উল্লাহ পাটোয়ারী বলেন, তারেক ও তার ছোট ভাই মো. রাসেল (১৩) ঢাকায় শহীদুল্লাহ হলের একটি ক্যান্টিনে কাজ করেন। ছুটিতে বাড়িতে থাকা অবস্থায় তারেককে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। তার দাবি, অসহায় ছেলেটিকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ঘর থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা দরকার। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

 

ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার পুলিশ আহত তারেকের বাড়িতে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সফিক প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়।

মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, অভিযুক্ত সফিক প্রধানকে এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রতিনিধি/টিবি