Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

প্রতিবন্ধী নিরব পেল জিপিএ ফাইভ, মা-বাবার কপালে চিন্তার ভাঁজ

জেলা প্রতিনিধি

১২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

সারা শরীর অবশ। ডান হাতটাও কাজ করে সামান্য। সকল প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে অদম্য তরুণ প্রতিবন্ধী ইয়াসির ইসলাম নিরব সদ্য ঘোষিত এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সাফল্য জিপিএ ফাইভ অর্জন করেছে। সন্তানের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ কৃষক মা-বাবার। 

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের পলাশতলী গ্রামে নিরবের বাড়ি।  তার বাবার নাম সিরাজুল ইসলাম। পেশায় একজন দরিদ্র কৃষক। মা গৃহিনী। ২ মেয়ে ও এক ছেলের সংসারে নিরব হচ্ছে বড়। 

পারিবারিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে নিরব জানায়, অল্প জমির চাষাবাদে চলছে আমাদের কষ্টের সংসার। পরিবারে আমি বড় সন্তান। আমার ছোট ২ বোনের মধ্যে ফারজানা আক্তার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। অপরজন ছোট সাদিয়া আক্তার। সে বর্তমানে শিশু শ্রেণিতে পড়ছে। এরমধ্যে আমার উচ্চ শিক্ষার খরচ চালানো আমার দরিদ্র বাবা-মার জন্য অনেক কষ্টের।

এ সময় শিক্ষাজীবনের করুণ কষ্টের স্মৃতিচারণ করে নিরব জানায়, প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় আমার বাবা আমাকে কোলে করে স্কুলে দিয়ে আসত। এরপর পলাশতলী আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় কখনো আমার বাবা, কখনো আমার বন্ধুরা স্কুলে নিয়ে যেত। আজকে আমার সাফল্যের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। তবে আমার বাবা-মার মুখের হাসি আমাকে কষ্টের জীবনের সব দুঃখ ভুলিয়ে দিয়েছে। 

উচ্চ শিক্ষার জন্য নিরব প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করে আরও জানায়, আমি লেখাপড়া করে ডাক্তার হতে চাই। ডাক্তার হয়ে আমার মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষদের পাশাপাশি দেশবাসীর সেবা করতে চাই। কিন্তু আমার বাবা-মার সামর্থ্য নেই আমাকে উচ্চ শিক্ষায় পড়ানোর। এই অবস্থায় শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন, দরিদ্রতার কারণে আমার লেখাপড়া যেন বন্ধ না হয়। আমার স্বপ্ন যেন থেমে না যায়, ডাক্তার হয়ে আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।

জিপিএ ফাইভ পাওয়া ইয়াসির ইসলাম নিরব উপজেলার পলাশতলী আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের নিয়মিত শিক্ষার্থী। তার এই সাফল্যে খুশি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

ইয়াসিরের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ছেলেকে নিয়ে আমাদের সব সময়ই চিন্তা হতো। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে ওকে অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে পড়াশোনা করতে হয়েছে। কিন্তু ও কখনো হাল ছাড়েনি। আজ সে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় আনন্দের। কিন্তু ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার মতো সামর্থ্য আমার নেই। এই জন্য আমি একজন দরিদ্র পিতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চাই। আমার ছেলের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নিরব পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী ছিল। অন্যদের চেয়ে তাকে কিছুটা বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে। কিন্তু সে কখনো নিজের সীমাবদ্ধতাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেনি। নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষকদের পরামর্শ মেনে চলা এবং নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসই তাকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, প্রতিবন্ধী নিরবের সাফল্য প্রশংসনীয়। উপজেলা প্রশাসন তার লেখাপড়া চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করবে।

প্রতিনিধি/এলএ