Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

২০ শিক্ষক, দাখিল পরীক্ষার্থী ১২, কেউই পাস করেনি

জেলা প্রতিনিধি

১১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বৈরাটি সিনিয়র আলিম মাদরাসায় দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ জন শিক্ষার্থীর পাঠদানের দায়িত্বে ছিলেন ২০ জন শিক্ষক। অথচ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

সোমবার (১০ আগস্ট) উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে। মাদরাসাটি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নে অবস্থিত।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ২৩টি মাদরাসা থেকে ৮৯৭ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪০৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন। মাদরাসা পর্যায়ে উপজেলায় গড় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

তবে বৈরাটি সিনিয়র আলিম মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে মাদরাসাটির অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নিয়মিত মাদরাসায় আসেনি। তারা চেষ্টা করেছে। তবে মাদরাসাটিতে আগে শিক্ষক সংকট ছিল এবং অবকাঠামোও জরাজীর্ণ। সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। আগামী বছর থেকে ভালো ফলাফলের জন্য প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

শতভাগ ফেল, ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ বিদ্যালয়ের প্রধানকে শোকজ

২০ জন শিক্ষক থাকার পরও ১২ জন পরীক্ষার্থীর কেউ পাস না করার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, ‘এটা তো আসলে লজ্জার কথা। প্লিজ, এটা নিয়ে নিউজ করবেন না।’

এদিকে মাদরাসাটিতে শিক্ষক সংখ্যা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

একটি প্রতিষ্ঠানে ২০ জন শিক্ষক থাকার পরও দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও একাডেমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি যদি ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হয়ে থাকে, তাহলে তাদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগ কতটা কার্যকর ছিল, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।

প্রতিনিধি/এসএস