জেলা প্রতিনিধি
১১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম
নোয়াখালী জেলাজুড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে হঠাৎ করে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে শুরু হয়েছে চরম ভাড়া নৈরাজ্য। সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনের চালকরা মনগড়া বাড়তি ভাড়া হাঁকাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার ব্যস্ততম সোনাপুর-চৌমুহনী মাইজদী সড়ক, ইসলামিয়া সড়ক ও উদারহাট সড়কসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক পথে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। গ্যাসের সঠিক সরবরাহ না থাকায় দীর্ঘ সময় ফিলিং স্টেশনে দাঁড়িয়ে থেকেও জ্বালানি পাচ্ছেন না চালকরা। আর এই অজুহাতকে ঢাল বানিয়ে চালকরা দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া দাবি করছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশার পাশাপাশি ইলেকট্রিক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরাও সুযোগ বুঝে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন, যা সাধারণ যাত্রীদের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিদিনের যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীরা।
মাইজদীগামী এক স্থানীয় যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গ্যাস সংকট চালকদের সমস্যা হতে পারে, কিন্তু সেই সুযোগে আমাদের পকেট কাটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কোনো তদারকি না থাকায় যে যার মতো ইচ্ছা ভাড়ার হার বসিয়ে দিয়েছে।
ইসলামীয়া সড়কে ইসমাঈল হোসেন নামে এক যাত্রী বলেন, প্রতিদিনই ২৫ টাকা দিয়ে যাতায়াত করি কিন্তু মাঝে মাঝে ভাঙতি না থাকায় ৩০ টাকা দিই কিন্তু এখন গ্যাস সংকটকে কাজে লাগিয়ে ৪০-৫০ টাকার মতো ভাড়া নিচ্ছে।
জেলার দত্তেরহাট সড়কের আবদুল জলিল বলেন, এই সড়কে নিয়মিত ভাড়া ছিল ৪০ টাকা। এখন সেই ভাড়া নিচ্ছে ৬০ টাকা করে। কিছু বললে তারা উল্টো হুমকি-ধমকি দেয় ও গ্যাস সংকট দেখিয়ে তর্ক করে।
তাহসিন নামে আরেক যাত্রী বলেন, আমি জেলা সুপারমার্কেটের একটি দোকানে কাজ করি। কাজ শেষে প্রতিদিন সোনারপুর যেতে হয়। প্রতিদিন ২০ টাকা করে গেলও গ্যাস সংকটের কথা বলে ৩০ টাকার নিচ্ছে। তাও আবার খারাপ আচরণ করছে।
এ বিষয়ে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাচ্ছি না। কাজ বন্ধ রেখে বসে থাকলে পরিবার চালাব কীভাবে? অল্প যেটুকু গ্যাস পাচ্ছি, তা দিয়ে পোষাচ্ছে না বলেই কিছুটা বাড়তি ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছি।
এক অটোরিকশার চালক অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে বলেন, আজকের দিনের জন্য তো বাড়তি নিচ্ছি। অন্যদিনের জন্য বাড়তি নিচ্ছি না।

সরজমিনে দেখা যায়, শুধু গ্যাস সংকট নয়, বরং রাস্তা ভাঙা ও বৃষ্টির কারণ দেখিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে অটোরিকশার চালকরা। অন্যদিকে, দীর্ঘ দিন ধরে পৌরসভার অধীনে কোনো নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা না থাকায় এ সমস্যা দিন দিন আরও প্রকট হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
তানিম মজুমদার নামে আরেক যাত্রী বলেন, নোয়াখালীর বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে, বিশেষ করে চৌমুহনী থেকে সোনাইমুড়ীতে চলাচলের সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের এক চরম নৈরাজ্য চলছে। কোনো প্রকার নির্ধারিত নীতিমালা না মেনে ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। ১০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা, ২০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা, ৩০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪০ টাকা। প্রতিটি রুটে এই অহেতুক বাড়তি ভাড়া আদায় করা হলেও বিষয়টি তদারকি করার যেন কেউ নেই।
যাত্রী সাধারণের দাবি, অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ-র সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দ্রুত গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা (বিআরটিএ) সহকারী পরিচালক মাহবুব রাব্বানী বলেন, ভাড়া সংক্রান্ত বিষয়ে আমরা একটা অভিযান করেছি এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে আরও কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
প্রতিনিধি/টিবি