জেলা প্রতিনিধি
০৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
ফেনী সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের মিলনায়তনে ছাত্রদলের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠানের পর ফেনীতে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
রোববার ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুল হাসান নোমানের সভাপতিত্বে এ সভার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
তাদের দাবি, কীভাবে শিক্ষকদের ওই কক্ষে একটি ছাত্র সংগঠনের সভা হয়? প্রিন্সিপাল ও শিক্ষকদের চেয়ারে ছাত্র নেতারা কীভাবে বসল? ছাত্রদের অধিকার ও শিক্ষকদের শ্রদ্ধা রক্ষার্থে বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
সভায় অংশগ্রহণকারী একাধিক নেতাকর্মী জানান, শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে সভায় কলেজ অধ্যক্ষের নির্ধারিত চেয়ারে বসেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ হাসান রনি, উপাধ্যক্ষের চেয়ারে বসেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুল হাসান নোমান, পরিষদ সম্পাদকের চেয়ারে বসেন সিনিয়র যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মেহেদী হাসান আরাভী।
সভা চলাকালে বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী আলোচনা করলেও প্রকাশ্যে মুখ খুলেনি।
সভা শেষে ওই কক্ষের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়।
ছাত্রশক্তির জেলা আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন শাকিল তার ফেসবুকে লিখেছেন, শিক্ষক পরিষদে ছাত্র সংগঠনের মিটিং এটা তো কখনো ছাত্রলীগও করছে কিনা সন্দেহ৷ ছাত্র রাজনীতির জন্য ছাত্র সংসদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৫ই আগস্টের পর ২ বছর ইন্টিয়ম সরকার এর মধ্যে আমরা বা অন্যান্য ছাত্র সংগঠন চাইলেও মিটিং করতে পারত যেকোন জায়গায়। আমরা বা অন্য কোনো সংগঠন তো তা করে নাই। কিন্তু শিক্ষক পরিষদে ছাত্র সংগঠনের বর্ধিত সভা কোনোভাবেই কাম্য নয়৷
কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি তোফায়েল আহমেদ তপু ফেসবুকে লিখেছেন, আওয়ামী লীগের তিন মেয়াদের শাসনামলে কোনো ছাত্র প্রতিনিধি নয়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও শিক্ষকদের ওই চেয়ারে বসার স্পর্ধা দেখায়নি। শিক্ষক পরিষদের কক্ষে শিক্ষকদের চেয়ারে বসে দলীয় সভা ছাত্রলীগ কখনোই করেনি। শুধু তাই নয়, কলেজ ছাত্র সংসদও কখনো ওই কক্ষে সভা করার সাহস দেখায়নি। বর্তমানে মনে হয়, কলেজ অধ্যক্ষ, শিক্ষক পরিষদ সম্পাদকসহ পরিষদের অন্য কর্মকর্তারা আত্মমর্যাদাহীন।
ওই স্ট্যাটাসে আরো উল্লেখ করা হয়, ছাত্র রাজনীতি মানে নেতৃত্বের শিক্ষা, ছাত্র নেতারাও শিক্ষকদের কাজ থেকে শিখবে। সেসব শিক্ষক যখন নৈতিকভাবে চরম অধ:পতনে দেউলিয়া হয় তখন ছাত্র-ছাত্রী ও ছাত্রনেতারা বেয়াদব হতে বাধ্য।
ছাত্রশিবিরের ফেনী জেলা সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান লিখেছেন, ফেনী সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তন কক্ষে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের চেয়ারে বসে নিজ দলীয় মিটিং করছে কলেজ ছাত্রদল সভাপতি-সেক্রেটারি। ক্যাম্পাস কি ছাত্রদলকে ইজারা দেওয়া হলো?
এসব প্রসঙ্গে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ হাসান রনি বলেন, আমরা শিক্ষকদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে প্রোগ্রামটা করেছি এবং শিক্ষকদের চেয়ারে নয়, বরং সেখানে রাখা সাধারণ চেয়ারে বসে প্রোগ্রাম করেছি।
প্রতিনিধি/এলএ