জেলা প্রতিনিধি
০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও আলাদা ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন আদিবাসী নেতারা।
একই সঙ্গে খাসি, গারো, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং চা-বাগানের শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা ও সংবিধানে ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
রোববার দুপুরে শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ফিতা কেটে উদ্বোধন করা হয়। পরে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত ফেস্টুন নিয়ে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার অডিটোরিয়ামে এসে শেষ হয়।
এরপর আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আদিবাসী সাংস্কৃতিক কমিটি, বৃহত্তর সিলেট বিভাগের সভাপতি পংকজ এ কন্দ।
উদ্বোধনী বক্তব্য দেন একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনক দেববর্মা।
সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য নেরলা তেনসং, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা এবং আদিবাসী ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহ-সভাপতি হিরণময় সিংহ।
বক্তারা বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রাচীন জ্ঞানভাণ্ডার সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষা, ভূমির অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
তারা আরও বলেন, সরকার একদিকে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’, অন্যদিকে ‘উপজাতি’ এমন ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে অভিহিত করছে আদিবাসীদের। এতে তাদের স্বকীয় পরিচয় প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে পংকজ এ কন্দ বলেন, মৌলভীবাজার জেলায় স্বীকৃত ২৯টি জনগোষ্ঠীসহ আরও অনেক জনগোষ্ঠী রয়েছে, যারা এখনো স্বীকৃতির বাইরে। তাদের পাশাপাশি চা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও আজকের এই আয়োজনে অংশ নিয়েছেন নিজেদের অধিকার আদায়ের প্রত্যাশা নিয়ে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন এবং সাংবিধানিক স্বীকৃতি এখন সময়ের দাবি।
আলোচনা শেষে আয়োজনের সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেয় প্রায় ২০টি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর দল। নৃত্য, সংগীত ও ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনার মধ্যদিয়ে তারা তুলে ধরে নিজস্ব সংস্কৃতির রঙ ও ঐতিহ্যের সৌন্দর্য।
প্রতিনিধি/এলএ