Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

সাপের কামড়ে প্রাণ গেল বিএনপি নেতার

জেলা প্রতিনিধি

০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২২ এএম

পটুয়াখালীর গলাচিপায় সাপের কামড়ে জাকির মৃধা (৪৫) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, সাপের কামড়ের পর তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও অ্যান্টিভেনাম না দিয়ে পটুয়াখালীতে রেফার করা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে পটুয়াখালী নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

তবে কর্তব্যরত চিকিৎসকের দাবি, রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করেই অ্যান্টিভেনাম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

জাকির মৃধা গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মৃধা বাড়ির মো. ফজলুল করিম মৃধার ছেলে। তিনি সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিজ ঘরে বসে চা খাওয়ার সময় একটি সাপ তার বাম পায়ের আঙুলে কামড় দেয়। সাপটি দেখতে পেয়ে তিনি বিষয়টি স্ত্রীকে জানান। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

হাসপাতালের রেজিস্টার অনুযায়ী, সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে সাপের কামড় নিয়ে জাকির মৃধাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে অ্যান্টিভেনামসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে পটুয়াখালীতে রেফার করা হয়।

নিহতের বড় ভাই ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল অদুদ মৃধা বলেন, হাসপাতালে তার ভাইকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। অ্যান্টিভেনাম দেওয়া হলে হয়তো তাকে পটুয়াখালী নেওয়ার মতো সময় পাওয়া যেত। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানান।

অ্যাম্বুলেন্সচালক মো. জুয়েল বলেন, রেফার করার পর পটুয়াখালী নেওয়ার সময় রোগীর জ্ঞান ছিল। পথে কোনো বিলম্ব হয়নি। পরে পটুয়াখালী হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে অ্যান্টিভেনাম না দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল নাঈম তানহা। তিনি বলেন, রোগী আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তার ব্লাড প্রেসার ও হার্ট রেট অনেক বেশি ছিল। কার্ডিয়াক ইস্যুর বিষয়টি বিবেচনা করে সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শের পর অ্যান্টিভেনাম না দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালীতে রেফার করা হয়।

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবা উদ্দিন বলেন, কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোগীর প্রাথমিক লক্ষণ দেখে সাপটি বিষধর কি না শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে রোগীর শ্বাসকষ্ট ও প্রেসার বেশি থাকায় অ্যান্টিভেনাম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিনিয়র কনসালট্যান্টের সঙ্গে পরামর্শ করেই তাকে পটুয়াখালীতে রেফার করা হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ৪০ ভায়াল অ্যান্টিভেনাম মজুত রয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে রোগীর পরিবারের কোনো অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।

এদিকে, সাপের কামড়ের পর জাকির মৃধার শারীরিক অবস্থায় অ্যান্টিভেনাম দেওয়ার প্রয়োজন ছিল কি না, অ্যান্টিভেনাম না দেওয়ার চিকিৎসা-সিদ্ধান্ত যথাযথ ছিল কি না এবং হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তাকে কেন অ্যান্টিভেনাম দেওয়া হয়নি এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।

প্রতিনিধি/টিবি