Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

তরুণী নিয়ে মামার বাসায় আশ্রয়, অভিযানে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি

০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

ঢাকার সাভারে পুলিশের তল্লাশি অভিযানের সময় বহুতল ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মনারুল হোসেন বকশী (২৭) নামে এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার না করেই পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে— এমন অভিযোগ নিহতের স্বজনদের। 

তবে পুলিশ বলছে, মনোয়ার ছাদ থেকে লাফ দিয়েছিলেন। 

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি)-এর আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

মানারুল সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি বিপিএটিসির নিরাপত্তাকর্মী মুহাম্মদ জাফর আলীর ছেলে।

নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পীরগঞ্জ থানার একটি দল সাভার মডেল থানা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বিপিএটিসির আবাসিক এলাকায় মনারুল বাসায় তল্লাশি চালাতে যায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা ভবনের ছাদে ওঠেন। কিছুক্ষণ পর নিচে বিকট শব্দ শোনা যায়। পরে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা নিচে গিয়ে মনারুল রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

স্বজনদের অভিযোগ, গুরুতর আহত অবস্থায় মনারুলকে উদ্ধার বা হাসপাতালে নেওয়ার কোনো উদ্যোগ না নিয়ে অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

মনারুলের বাবা মুহাম্মদ জাফর আলী বলেন, পুলিশের তল্লাশির সময় আমার ছেলে ছাদ থেকে পড়ে যায়। কিন্তু তাকে উদ্ধার না করে পুলিশ দ্রুত চলে যায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চাই।

পুলিশ জানায়, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে এক তরুণীকে রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে সাভারে নিয়ে আসেন মনারুলের ভাগ্নে সৌমিক। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সৌমিকের অবস্থান শনাক্ত করে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ সাভারে আসে এবং সাভার মডেল থানা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বিপিএটিসি এলাকায় অভিযান চালায়। 

পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় সৌমিককে না পেয়ে তারা ভবনের ছাদে তল্লাশি চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ছাদে থাকা মনারুল নিচে লাফ দেন। তবে পুলিশের অভিযানের আগেই সৌমিক ও ওই তরুণী বাসা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।

ঢাকা জেলা ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন সিকদার বলেন, মনারুল যদি দুর্ঘটনাবশত বা অন্য কোনো কারণে ছাদ থেকে পড়েও থাকে, তাহলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া পুলিশের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু তা না করে তাকে ফেলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় পুরো ঘটনাকে ঘিরে গুরুতর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, রংপুরের পীরগঞ্জ থানা থেকে এসআই কনক কান্তি বড়ুয়ার নেতৃত্বে একটি দল এসেছিল। বাইরে থেকে কোনো টিম এলে তারা আমাদের সহযোগিতা চায়। তারা জানিয়েছিল, একটি নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে অভিযান চালাবে। বাসায় ওই ব্যক্তিকে না পেয়ে তারা ছাদে ওঠে। এরপর কী হয়েছে, সেটি তদন্তেই জানা যাবে। 

তাদের দাবি, ‘মনারুল ছাদ থেকে লাফ দিয়েছেন। শব্দ পেয়ে নিচে গিয়ে তাকে আহত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।’ অভিযানে আসা দলটি আমাদের থানায় না এসে ফিরে যায়।

পীরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কনক মনোরঞ্জন বর্মনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। 

তবে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, নিখোঁজ জিডির তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে একটি দল সাভারে যায়। সেখানে সাভার মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালানো হয়।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

প্রতিনিধি/এলএ