জেলা প্রতিনিধি
০৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৪ আগস্ট থেকে ক্যাম্পাসে অতিথি/দর্শনার্থী, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা, প্রাইভেটকার ও দর্শনার্থীসহ সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির-ছাত্রদলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা জোরদার ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
এদিকে, সোমবার সন্ধ্যার পর জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই শীর্ষক প্রদর্শনীতে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের শিকার হওয়া নেতৃবৃন্দের ছবি অপসারণ নিয়ে ছাত্রদল এবং ছাত্র শিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২০ জনের অধিক আহত হন।
বেরোবি সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসে ছাত্র শিবিরের উদ্যোগে জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই শীর্ষক প্রদর্শনীতে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের শিকার হওয়া নেতৃবৃন্দের ছবি প্রদর্শনীতে আপত্তি তোলেন ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ। তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বিরোধীতার বিষয়ে কয়েকজনের ছবি প্রদর্শনীর বিষয়ে জোর আপত্তি তোলেন এবং অপসরণের কথা বলেন। এদিকে, ছাত্রশিবির কোনোভাবেই ছাত্রদলের আপত্তির মুখে ছবি অপসারণ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এ নিয়েই সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা। পরে উভয়পক্ষই লাঠিসোটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া শুরু করে। একপর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যেই ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ইট-পাটকেল, চেয়ার নিক্ষেপসহ লাঠি দিয়ে আঘাতের ঘটনাও ঘটে। এতে ২০ জনের অধিক আহতের ঘটনা ঘটে। পরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মো. শওকত আলীর উদ্যোগে রাতে শিবির ও ছাত্রদলের নেতারা বসে অপ্রীতিকর ঘটনা বন্ধে একমত হন।
মহানগর তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ১৪৪ জারির আবেদন করেছেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি যাচাই-বাছাই চলছে।
প্রতিনিধি/টিবি