Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা

জেলা প্রতিনিধি

৩০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

হবিগঞ্জের পর এবার সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার চৌমুহনীস্থ পৌরসভার গেটের সামনের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গোলাপগঞ্জ উপজেলার অডিটোরিয়ামে শহীদদের পরিবারের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে বের হওয়ার পর আচমকা তাদের গাড়িবহরে হামলা চালায় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

 

Screenshot_2026-07-30_153719

এদিকে দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’

এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। ওই হামলায় সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

এ ঘটনায় বিএনপির সহযোগী ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাত আটটার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল।

মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহমেদ রিংগনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এজাহারনামীয় আসামি মোট ১১ জন। এছাড়া আরও ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

এর আগে হামলার প্রতিবাদ, মামলা দায়ের এবং আহতদের খোঁজখবর নিতে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা একাধিক স্থানে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন।

 মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে হবিগঞ্জের মিরপুর এলাকায় পুলিশ এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেয়। দীর্ঘ সময় পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করেও অগ্রসর হতে না পেরে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সড়কে অবস্থান নেন। বৃষ্টির মধ্যেই চলে তাদের অবস্থান কর্মসূচি।

এসময় সাংবাদিকদের নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘হবিগঞ্জে তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ছিল হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, আহতদের দেখতে যাওয়া এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। তিনি জানান, তারা হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা করবেন, তারপর ঢাকায় ফিরবেন।’

নাহিদ অভিযোগ করেন, ‘মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ পর্যন্ত পথে কয়েক দফায় বালুবাহী ট্রাক, ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন যানবাহন দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। পরে মিরপুর এলাকায় পুলিশ তাদের আটকে দেয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করায় তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমিতসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে শুধু মামলা করতে এবং আহতদের দেখতে যেতে চেয়েছিলেন। তবে পুলিশ তাদের সেই সুযোগ দেয়নি।’

অন্যদিকে হাসনাত পুলিশ সদস্যদের ওপরে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘আমরা মামলা করার জন্য হবিগঞ্জে যাচ্ছি। আপনারা কেন বাধা দিচ্ছেন?’ এছাড়া গতকাল হামলার সময় আপনারা কোথায় ছিলেন- এমন প্রশ্ন তোলেন এনসিপির আরেক নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

এর জবাবে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা নাহিদ ইসলামদের জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে নির্দেশে তাদের গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়েছে। হবিগঞ্জে এই মুহূর্তে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। তাই গাড়িবহর নিয়ে সেখানে যাওয়া যাবে না।

শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণেই এনসিপির নেতাকর্মীদের অগ্রযাত্রা সাময়িকভাবে আটকে দেওয়া হয়েছিল।’

এমআই