জেলা প্রতিনিধি
২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে অবহেলা, ভুল চিকিৎসা এবং অদক্ষ জনবল ব্যবহারের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর নড়াইলের মডার্ন সার্জিক্যাল ক্লিনিক সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে ক্লিনিকটির অপারেশন থিয়েটারসহ সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে নড়াইল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিএ) নড়াইল জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ি ইউনিয়নের বনগ্রামের বাসিন্দা কামরুজ মোল্যার অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে সোহানা বেগমকে (২০) গত ৪ জুলাই নড়াইল শহরের মডার্ন সার্জিক্যাল ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। অন-কল চিকিৎসক সুব্রত কুমারের তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। ৮ জুলাই তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও কয়েক দিনের মধ্যে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে নড়াইল সদর হাসপাতাল এবং পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে আট ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পর পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়।
প্রসূতির মা রবেয়া বেগম বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পাননি। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাদের জানান, আগের অস্ত্রোপচারের সময় পেটের ভেতরে নাড়ির অংশ থেকে যাওয়ায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। মেয়ের জীবন বাঁচাতে পরে তার জরায়ু অপসারণ করতে হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় তদন্তে ক্লিনিকটির জনবল ও চিকিৎসাসেবার নানা অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। ক্লিনিকের কর্মী সাবানা জানান, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নবম শ্রেণি পর্যন্ত। চিকিৎসক অস্ত্রোপচার শেষে চলে যাওয়ার পর প্রসূতির সেলাই দেওয়া, অ্যানেস্থেসিয়া-সংক্রান্ত সহায়তা এবং অস্ত্রোপচার-পরবর্তী তদারকির মতো দায়িত্বও তিনি পালন করতেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী মফিজুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের চিকিৎসার কারণে কোনো সমস্যা হলে আমরাই ব্যবস্থা নিই। তারা খুলনায় গেছেন, সেটিও আমরা জানি না। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের পর সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তদন্তে অনিয়ম ও চিকিৎসায় ত্রুটির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধ করে সিলগালা করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, তারা এ ঘটনায় আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অভিযানকালে নড়াইল জেলা বেসরকারি ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ রহমান, সিভিল সার্জনের পক্ষে ডা. আসিফুর রহমান বাপ্পী, ক্লিনিক মালিক মাহফুজসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/এসএস