images

সারাদেশ

ঝটিকা সফরে নোয়াখালী হাসপাতালে মন্ত্রী, তত্ত্বাবধায়ক প্রত্যাহার

১৬ জুন ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

ঝটিকা সফরে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। এসময় রোগীদের চিকিৎসা সেবায় নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের প্রমাণ মেলায় তাৎক্ষণিক হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। এ নির্দেশনার পরপরই স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ঘিরে বিক্ষোভ মিছিল করে হাসপাতালে বাইরে থাকা লোকজন। বহিরাগতদের বিক্ষোভের মুখে একপর্যায়ে সেখান থেকে সরে আসতে বাধ্য হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। পরিদর্শনের সময় নতুন ২৫০ শয্যা ভবনটি দ্রুত কাজ শেষ করার পরামর্শ দেন এবং পুরাতন ভবনকে সংস্কার করে আরেকটি ২৫০ শয্যা হাসপাতাল করার ঘোষণা দেন। সাময়িকভাবে ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দেন।

এ দিকে মন্ত্রী দালাল, বহিরাগত ও কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়ে নোয়াখালী সার্কিট হাউসে গিয়ে  উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, সরকারের ১৭ বছরের নিয়োগ দেওয়া লোকজন এবং তাদের দালালরা হাসপাতালকে জিম্মি করে রেখেছে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে প্রত্যহার করা হয়েছে। পাশাপাশি তিন সদস্যের কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশ দিয়েছি।  

মন্ত্রী বলেন, আমি হাসপাতালে আজ সফরে এসে যা দেখেছি তা খুবই জঘন্য। এতো অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে একটি হাসপাতাল চলতে পারে না। আমরা ধীরে ধীরে এর সব কিছুই ঠিক করে ফেলব। নোয়াখালীর বর্তমান সিভিল সার্জনকে আমি মৌখিকভাবে হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছি। 

আওয়ামী লীগ ও অন্তবর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনা আমাদের অনেক দূর পিছিয়েছে। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য খাত একটি বিপর্যস্ত অবস্থায় পরিণত হয়েছে। সারা বাংলাদেশে এমন জঞ্জাল সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতি, যেখানেই আমরা হাত দেই সেখানেই অব্যবস্থাপনা আর খারাপ অবস্থা। সেটি রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব না। সাড়ে তিন মাসে সব পরিবর্তন সম্ভব না। 

অন্যদিকে মন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে রাতারাতি পাল্টে গেছে সদর হাসপাতালের চিরচেনা দৃশ্যপট। হাসপাতালজুড়ে চলছে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা এবং ধোয়া-মোছার কাজ ও  হাসপাতালের বহির্বিভাগে (আউটডোর) সাধারণ রোগীদের টিকিট দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত অসহায় রোগী। একইসঙ্গে বেড়েছে ডাক্তার-নার্সদের নিয়মিত উপস্থিতি। 

পরিদর্শনের সময় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক হারুন অর রশিদসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি/ক.ম/