জেলা প্রতিনিধি
১৫ জুন ২০২৬, ০১:১১ পিএম
একসময় অধিক ফলনের জন্য রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন কৃষকরা। তবে সময়ের পরিবর্তনে দিনাজপুরে এখন বাড়ছে নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি চাষের বিস্তার। জৈব সার, ফেরোমন ফাঁদ ও আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদিত এসব সবজি কৃষকদের দিচ্ছে বাড়তি লাভ, আর ভোক্তাদের দিচ্ছে স্বাস্থ্যকর খাদ্যের নিশ্চয়তা।
দিনাজপুরের কৃষিতে নীরবে ঘটছে এক ইতিবাচক পরিবর্তন। রাসায়নিক নির্ভর চাষাবাদ থেকে সরে এসে অনেক কৃষক এখন ঝুঁকছেন নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদনের দিকে। বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদা, উৎপাদন খরচ কমে আসা এবং তুলনামূলক বেশি দাম পাওয়ার কারণে বিষমুক্ত সবজি চাষ কৃষকদের কাছে হয়ে উঠছে সম্ভাবনাময় একটি উদ্যোগ।
জেলার সদর উপজেলার আস্করপুর ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই সবজি উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এখানকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সারা বছরই চাষ হয় নানা ধরনের মৌসুমি ও বারোমাসি সবজি। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে এসব সবজি রাজধানী ঢাকা, রংপুর, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে সরবরাহ করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে এলাকার অনেক কৃষক রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব ও সমন্বিত পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করেছেন। জমিতে জৈব সার ব্যবহারের পাশাপাশি হলুদ ফাঁদ, ফেরোমন ফাঁদ ও আলোক ফাঁদের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও কমছে।
বর্তমানে করলা, লাউ, বেগুন, ঝিঙা, মরিচ, মিষ্টি কুমড়া ও পটলসহ বিভিন্ন ধরনের সবজিতে ভালো ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা। বিষমুক্ত পদ্ধতিতে উৎপাদিত হওয়ায় এসব সবজির বাজারমূল্যও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
আস্করপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, আগে জমিতে নিয়মিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হতো। এতে খরচ যেমন বেশি ছিল, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও ছিল। এখন জৈব পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করছি। উৎপাদন খরচ কমেছে এবং বাজারে ভালো দাম পাচ্ছি।
একই এলাকার কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, নিরাপদ সবজির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ক্রেতারা এখন বিষমুক্ত সবজি খুঁজছেন। তাই আমরা ফেরোমন ফাঁদ ও জৈব সার ব্যবহার করে সবজি চাষ করছি। এতে লাভও বেশি হচ্ছে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, জেলায় প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ হয়ে থাকে। নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের এ উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি কৃষকদের আয়ও বাড়বে।
প্রতিনিধি/টিবি