images

সারাদেশ

বরগুনায় উদ্যোক্তাদের ব্যতিক্রমী বাজার অনুশীলন

১৪ জুন ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

হাটের ভেতর ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক, দরকষাকষি, স্টলে সাজানো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, হস্তশিল্প ও গৃহস্থালি সামগ্রী। কোথাও ডামি পুলিশ, কোথাও চাঁদাবাজের অভিনয়, আবার কোথাও হাট-ইজারাদারের ভূমিকায় প্রশিক্ষকরা। পুরো পরিবেশ দেখে যে কারো মনে হতে পারে এটি একটি বাস্তব গ্রামীণ হাট। অথচ এটি ছিল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক ব্যতিক্রমী ‘উদ্যোক্তা হাট’।

রবিবার (১৪ জুন) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ‘ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোগ উন্নয়ন’ শীর্ষক ১৬ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী পর্ব হয়। বরগুনা শহরের ৩৫, শহীদ স্মৃতি সড়কে অবস্থিত উন্নয়ন সংস্থা সংগ্রামের প্রধান কার্যালয়ে এ ব্যতিক্রমী আয়োজন হয়। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় এবং সংগ্রাম (সংগঠিত গ্রামোন্নয়ন কর্মসূচি)-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত ‘রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইজ) প্রকল্পের আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন। উদ্যোক্তা হাট পরিদর্শন করেন সংগ্রামের নির্বাহী পরিচালক চৌধুরী মো. মাসুম।

দেখা যায়, প্রশিক্ষণার্থীরা নিজ নিজ উদ্যোগের পণ্য বিভিন্ন স্টলে সাজিয়ে সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে বিক্রির অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। কাঁচাবাজার, সবজি, মুদি দোকান, চায়ের দোকান, পিঠা, নকশিকাঁথা ও ক্ষুদ্র ব্যবসাভিত্তিক নানা স্টল নিয়ে সাজানো হয় পুরো হাট। আয়োজনকে আরও বাস্তবধর্মী করতে বাজারের পরিচিত নানা পরিস্থিতি অভিনয়ের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। বিশেষ করে চাঁদাবাজদের আগমন, ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত প্রতিরোধ, পুলিশকে অবহিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপের মতো ঘটনাগুলো নাট্যরূপে উপস্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, আইনগত সহায়তা গ্রহণ এবং সংকট মোকাবিলার বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়া হয়। 

আয়োজকরা জানান, উদ্যোক্তাদের বাস্তব বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত করে তোলা, বিপণন কৌশল শেখানো, বাজার বিশ্লেষণের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আত্মবিশ্বাসী করে তোলাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এই অনুশীলনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা চাপের মধ্যেও ব্যবসা পরিচালনা, মূল্য নির্ধারণ, ক্রেতা ব্যবস্থাপনা ও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা লাভ করেন। 

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন সংগ্রামের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা, রেইজ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। অতিথিরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে উদ্যোক্তাদের পণ্য ও উপস্থাপনার প্রশংসা করেন।

অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা জানান, শ্রেণিকক্ষভিত্তিক প্রশিক্ষণের তুলনায় এই বাস্তবধর্মী অভিজ্ঞতা তাদের জন্য অনেক বেশি কার্যকর হয়েছে। বিশেষ করে ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, পণ্যের প্রচার, বিক্রয় কৌশল এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরিদর্শন শেষে চৌধুরী মো. মাসুম বলেন, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাস্তবমুখী অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোক্তা হাট অংশগ্রহণকারীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করেছে এবং ব্যবসা পরিচালনার বাস্তব চিত্র সম্পর্কে ধারণা দিয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তরুণ উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পরে প্রশিক্ষণের সার্বিক অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।  

প্রতিনিধি/ক.ম/