জেলা প্রতিনিধি
১৪ জুন ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় অবৈধভাবে ১৫ লাখ গলদা চিংড়ি ও বাগদা রেণু (পোনা) পাচারকালে জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় ট্রাকচালককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পরে জব্দ করা রেণুগুলো তেঁতুলিয়া নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
রোববার (১৪ জুন) সকাল ৭টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার ভোর প্রায় ৫টার দিকে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামের সরকারি আবদুর রশিদ তালুকদার কলেজ সংলগ্ন সড়ক দিয়ে এক ট্রাকে ১২টি ড্রামে করে গলদা চিংড়ি ও বাগদা রেণু বহন করা হচ্ছিল। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মো. আবুল বশারের সন্দেহ হলে তিনি ট্রাকটি থামিয়ে তল্লাশি করেন। ট্রাকচালক সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে ট্রাকে উঠে তিনি ড্রামভর্তি রেণু দেখতে পান। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাক, রেণু ও চালককে আটক করে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ট্রাকে থাকা ১২টি ড্রামে প্রায় ১৫ লাখ গলদা চিংড়ি ও বাগদা রেণু ছিল। অবৈধভাবে রেণু পরিবহনের দায়ে ট্রাকচালক নাসির উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
অভিযানকালে নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফেরদাউস, দশমিনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহাবুদ্দিন, ডিএসবি সদস্য হারুন অর রশিদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মো. আবুল বশার বলেন, দশমিনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর সামনে খেলা দেখার সময় এক ট্রাক থেকে পানি পড়তে দেখে আমার সন্দেহ হয়। পরে ট্রাকটির পিছু নিয়ে কলেজ সংলগ্ন ব্রিজের ওপর থামাই। চালকের কথাবার্তায় অসঙ্গতি থাকায় ট্রাকে উঠে দেখি ড্রামভর্তি অবৈধ গলদা চিংড়ি ও বাগদা রেণু। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন ও পুলিশকে বিষয়টি জানাই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ পাঠিয়ে ট্রাক, চালক ও রেণু জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জব্দ করা ১৫ লাখ গলদা চিংড়ি ও বাগদা রেণু তেঁতুলিয়া নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/টিবি