images

সারাদেশ

এবার দক্ষিণ কোরিয়ার ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা টানিয়েছেন ভক্ত

জেলা প্রতিনিধি

১১ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম

বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনার ঢেউ লেগেছে দেশের আনাচে-কানাচে। ক্রীড়ামোদী দর্শকদের পছন্দের দল ও সে দেশের পতাকা নিয়ে কত কিছুই না করছেন ভক্ত দর্শকেরা। ফুটবল নিয়ে এমন একটি আবেগ আর উন্মাদনার ঘটনা ঘটিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের খাল্লা গ্রামের দক্ষিণ কোরিয়া দলের সমর্থক আবু কাউছার মিন্টু মিয়া। দলকে ভালোবেসে তিনি এবার পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য দক্ষিণ কোরিয়া দলের পতাকা টাঙিয়ে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

bramon_2

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়া দলের প্রতি মিন্টুর অনুরাগ দেখে এলাকাবাসী তার সঙ্গে একমত পোষণ করে দক্ষিণ কোরিয়া দলের সাফল্য কামনা করেন। 

মিন্টু ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবিকার তাগিদে ১৯৯৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়া পাড়ি জমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি ইউনিয়নের খাল্লা গ্রামের বাসিন্দা আবু কাউছার মিন্টু। পরে ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপটি তিনি সেদেশের গ্যালারিতে বসেই দেখেন। এসময় দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দলের তৎকালীন আলোচিত খেলোয়াড় আঞ্জুয়ানের ক্রীড়া নৈপুণ্য দেখে মুগ্ধ হন তিনি। এরপর থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দলের ভক্ত হয়ে যান তিনি। পরে ২০১৩ সালে দেশে ফিরে আসেন। বর্তমান মিন্টু মিয়া নিজ গ্রামে তৈরি করেছেন, পিস কোরিয়া ক্যাফে নামে একটি রেস্টুরেন্ট। ওই ক্যাফের কাপ, প্লেট ও মগের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া দলের পতাকা দেখা যায়। দীর্ঘ সময় পর প্রবাস থেকে ফিরলেও দক্ষিণ কোরিয়া দলের প্রতি বিন্দু মাত্র ভালোবাসা কমেনি তার। 

bramon_3

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে রাজধানী ঢাকা বিমান বন্দর ওভার ব্রিজ এলাকায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা টাঙিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পূর্বের সেই পতাকা নিয়ে আত্মতুষ্টি হয়নি তার। তাই ২০২২ বিশ্ব কাপের আসরের আগেই নিজের বাড়ি খাল্লা থেকে পাশের ইউনিয়ন তেজখালি পশ্চিমপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দক্ষিণ কোরিয়া দলের পতাকা টানিয়ে ছিলেন। এবার আরেকটু বাড়িয়ে ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য পতাকা টানিয়েছেন তিনি। পতাকাটি খাল্লা বিষ্ণু রামপুর থেকে বাহাদুরপুর হয়ে খাল্লা পশ্চিম পাড়া সড়ক জুড়ে টানিয়েছেন। ফুটবল দলের প্রতি তার ভালবাসা দেখে অনেকেই তার দলকে সমর্থন জানিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দলের সাফল্য কামনা করেন। 

bramon_4

আমিনুল ইসলাম নামে স্থানীয় প্রতিবেশী যুবক জানান, মিন্টু ভাই কোরিয়া থেকে আসার পর থেকেই ওই দেশটির প্রতি তার টান বেড়ে যায়। এরপর থেকে কোরিয়ার জন্য কিছু করার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে তিনি মাটির ব্যাংকে টাকা জমানো শুরু করেন। এরপর তিনি পৈতৃকভাবে পাওয়া নিজের শখের আম বাগান বিক্রি করেন। ওই সময় পুরো এলাকায় প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কোরিয়ার পতাকা টানান। আমরা ২০২৬ আবারও দেখছি, তিনি আরও বড় করে বিশাল এলাকাজুড়ে পতাকা টানিয়েছেন। আমরাও তাকে উৎসাহ দিচ্ছি। আমরা চাই কোরিয়া এবারের বিশ্বকাপে ভালো ফলাফল করুক। আমি কোরিয়া দলের সাফল্য কামনা করি।

গ্রামের অটো চালক তারিকুল ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসের ছিলেন। প্রবাস জীবনের দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি তার এখনো অনেক আবেগ কাজ করে। সে দেশের প্রতি তার আলাদা টান ও ভালবাসা আছে। যার কারণে এবারো তিনি আরো বড় পতাকা টানিয়েছেন। মিন্টু ভাই, কোরিয়ার একজন বিরাট ভক্ত। আমরাও চাই তার মনের আশা যেন পূরণ হয়। 

ফুটবল ভক্ত মিন্টু জানায়, গত ২০০২ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় মাঠে বসে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখেছিলেন। সে সময়ে কোরিয়ার সুপার স্টার আঞ্জুমান নামে এক ফুটবলার খুব ভালো খেলতেন। সেখানে তার খেলা দেখে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার দলের একজন ভক্ত হন। দেশ এবং ফুটবল দলের প্রতি ভালো বাসার বহি: প্রকাশ থেকে এমন প্রয়াস বলে, জানায় মিন্টু। তার এমন কাজে এলাকাবাসীসহ স্বজনরা উৎসাহিত করছেন।

সবশেষ আজ মধ্য রাত থেকে শুরু হওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রিয় দল দক্ষিণ কোরিয়া যেন এবার বিশ্বকাপে সাফল্য অর্জন করেন, এ জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চান তিনি।

প্রতিনিধি/এজে