জেলা প্রতিনিধি
০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক প্রার্থীসহ অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৮ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রার্থী শেখ শাহাঙ্গীর আলম, শেখ হাবিবুর রহমান, মিথুন মণ্ডল, ইউসুফ আলী, সাদিক হোসেন, মুনছুর রহমান, জুয়েল রানা, রশিদুল ইসলাম ও রানা মিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির চারজন অভিভাবক সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ চলছিল। নির্বাচনে আনিছুর রহমান ও শেখ শাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে দুটি প্যানেলের আটজন এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নেন। মোট ভোটার ছিলেন ৩৪০ জন।
ভোট গ্রহণের একপর্যায়ে লাইনে দাঁড়ানো এক ভোটারের সঙ্গে কথা বলা নিয়ে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী ছাইদুর রহমান বলেন, দুই পক্ষই স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার দাবি, এ ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত এবং নির্বাচন ছিল কেবল উপলক্ষ।
প্রার্থী শেখ শাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন বাইরে থেকে লোক এনে তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আনিছুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার পক্ষের লোকজনও হামলার শিকার হয়েছেন।
নির্বাচনের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনা কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে। ভোট গ্রহণ বন্ধ না করে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়েছে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।’
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিম আরা বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মারামারির ঘটনায় অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
প্রতিনিধি/এমআই