ঢাকা মেইল ডেস্ক
০৬ জুন ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
সিলেটের বরেণ্য আলেম ও বুজুর্গ, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি শায়খুল হাদিস আল্লামা নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিলেট-৩ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য এম এ মালেকের বিরুদ্ধে। তাকে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে তারা আন্দোলনে নামার ঘোষণাও দিয়েছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) সিলেটের বালাগঞ্জের গহরপুর এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে বিএনপির সংসদ সদস্য এম এ মালেক বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় তিনি তাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করায় এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এক পর্যায়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজুর তীব্র সমালোচনা করেন। ওই এলাকাকে তিনি ‘পাকিস্তান’ মনে করতেন বলে জানান। মাওলানা রাজুর বাবা সর্বজন স্বীকৃত বুজুর্গ আল্লামা গহরপুরীকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ এবং ‘পাকিস্তানি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
এমপি এম এ মালেকের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তার তীব্র সমালোচনা করেন নেটিজেনরা। দেশে-বিদেশে আল্লামা গহরপুরীর ব্যাপক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা থাকায় সরকার দলীয় এমপির এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান অনেকেই। বিএনপির এই নেতার মানসিক সুস্থতা নিয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন।
সিলেটবাসী বিশেষ করে সিলেট-৩ নির্বাচনি এলাকার জনসাধারণ এই বক্তব্যে আহত হন। তারা এমপির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এম এ মালেককে তীব্র আক্রমণ করেন। তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
লন্ডন বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ মালেক গত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার সঙ্গে নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সিলেটের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়া গহরপুরের মুহতামিম, বেফাকের সহসভাপতি এবং গহরপুরী রহ.-এর একমাত্র ছেলে মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীক নিয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ব্যাপক কারচুপি ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন বিরোধীরা।
জেবি