জেলা প্রতিনিধি
০৪ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ এএম
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ভেতরে রাকিবুল ইসলাম রাকিব নামে এক সেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে থানার ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।
বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করার পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মারধরের শিকার ওই নেতা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের রংপুর সদর উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঈদের আগে নগরীর সিও বাজার এলাকার এক প্রেমিক যুগল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি জিডি করা হয়েছিল। জিডিমূলে ওই যুগলকে উদ্ধারের পর বুধবার সন্ধ্যায় কোতয়ালী থানায় আনা হয়। পরে ওই যুগলের পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসা করতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। সেখানে লাভলু নামে এক নেতার ডাকে থানায় যান রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি থানায় গিয়ে দেখতে পান, এক পুলিশ সদস্য ওই যুগলকে মারধর করছেন। রাকিবুল বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে ওসি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকেও মারধর করেন। এতে তিনি রক্তাক্ত ও আহত হন। ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। অবস্থা বেগতিক দেখে থানার কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় গেটের ভেতর থেকেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাকিবুল ইসলাম। তখন তার শরীরে রক্তের দাগ ও আঘাতের কারণে একটি চোখ ফুলে থাকতে দেখা যায়।
রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, উদ্ধার করা প্রেমিক যুগলকে থানার ভেতরে এক পুলিশ সদস্য মারধর করছিলেন। বিষয়টি দলের এক নেতাকে জানাতে পকেট থেকে তিনি ফোন বের করার সঙ্গে সঙ্গে ওসি, এসআই ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর চড়াও হন এবং বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় বারবার তাদের অনুরোধ করেছি, পরিচয় দিয়েছি যে, আমি স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব, বিএনপির একজন কর্মী। আমি বিগত ১৭ বছর নির্যাতনের শিকার হয়েছি, তারপরেও তারা আমাকে মেরে রক্তাক্ত করেছে। আমার ব্যবহৃত ফোন দুইটা কেড়ে নিয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এদিকে, খবর পেয়ে থানায় যান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু। পরে মারধরের শিকার ওই নেতাকে হাসপাতালে পাঠান তিনি। এরপরে রাত ১১টার দিকে থানা থেকে ওই যুগলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম বলেন, পোশাক চেঞ্জ হয়েছে কিন্তু পুলিশের চরিত্র চেঞ্জ হয়নি, তারা এখনও আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের লোক রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

থানার ভেতরে মারধরের ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইন্সে রিপোর্ট (ক্লোজড) করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তারা হলেন— ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা ও এসআই মাসুদ রানা। বুধবার গভীর রাতে মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
এ ঘটনায় মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে কোতয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমানে বলেন, উদ্ধার হওয়া প্রেমিক যুগলের দুই পরিবারের মধ্যে হাতাহাতি হলে তারা দুই পক্ষকে থামান। কাউকে মারধর করা হয়নি।
এ বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, থানার ভেতরে মারধরের ঘটনার অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/টিবি