images

সারাদেশ

ইরাক-কুয়েত প্রত্যাগতদের বকেয়া অর্থ বিতরণের দাবি, ফেনীতে সংবাদ সম্মেলন

জেলা প্রতিনিধি

০৩ জুন ২০২৬, ১২:২০ এএম

ইরাক-কুয়েতের প্রত্যাগত ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের জাতিসংঘের ক্ষতিপূরণের বকেয়া অর্থ দ্রুত বিতরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ বিদেশ প্রত্যাগত প্রবাসী ও নন-প্রবাসী কল্যাণ দল।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে ফেনী শহরের ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি জানান।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আবু আহাম্মদ ভূঞা বলেন, ‘কুয়েত-ইরাক প্রত্যাগতদের জন্য জাতিসংঘ থেকে যে অর্থ এসেছে, তার চার ভাগের এক ভাগও এখনো বিতরণ করা হয়নি। ম্যানপাওয়ার ব্যুরোকে মহাপরিচালক একাধিকবার হিসাব দিতে বললেও তা দেওয়া হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ম্যানপাওয়ার ব্যুরোর মহাপরিচালক বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং ১১ জন ব্যাংক ম্যানেজারকে নিয়ে ম্যানপাওয়ার ব্যুরোতে বৈঠকের আয়োজন করেন। সেখানে জানানো হয়, জাতিসংঘের কোনো অর্থ ফেরত যায়নি, টাকা বাংলাদেশেই রয়েছে এবং তা পাওয়া যাবে। আমাদেরকে মন্ত্রণালয়ে কাগজপত্র জমা দিতে বলা হলে আমরা তা জমা দিয়েছি।’

আরও পড়ুন: হাতীবান্ধায় ৭ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ভ্যানচালক গ্রেফতার

আবু আহাম্মদ ভূঞা অভিযোগ করে বলেন, ‘জাতিসংঘের টাকার লভ্যাংশ থেকে প্রাপ্ত ৩২ কোটি টাকার মধ্যে ২৬ কোটি টাকা দিয়ে গুলশান ভাটারা মৌজায় ১৫১ কাঠা জমি কেনা হয়, আর বাকি ৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পুরো অর্থই কুয়েত-ইরাক প্রত্যাগতদের টাকা হলেও ম্যানপাওয়ার ব্যুরো প্রতারণা করে জমিটি নিজেদের নামে ক্রয় করে।’

তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে হিসাব দেওয়া হলেও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ভাটারার ওই জমিতে আগের ও বর্তমান সরকার হাউজিং ও অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প করার কথা বলে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। পরে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল করার কথা বলে শেয়ার বিক্রি করেও বিপুল অর্থ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো বাস্তবায়ন হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই প্রকল্প না হলে জমিটি আমাদের ফেরত দেওয়া হোক। প্রবাসী কল্যাণ সচিব ও মহাপরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে, আমাদের শেয়ার দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি।’

আরও পড়ুন: জীবিকার তাগিদে হাতিয়ায় এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল তরুণের

আবু আহাম্মদ ভূঞা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা ১০ হাজার লোকের তালিকা জমা দিয়েছি। যদি প্রকল্প বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে হয় জমি ফেরত দিতে হবে, নয়তো আমরা আমাদের অধিকার অনুযায়ী জমি দখলে নিতে বাধ্য হব।’

সংবাদ সম্মেলনে ফেনী জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজ, সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি হাজী আশিকুর রহমান মাসুক, নোয়াখালী অঞ্চলের সভাপতি মো. বাবুলসহ অর্ধশতাধিক প্রত্যাগত প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন।