জেলা প্রতিনিধি
০১ জুন ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
যে রাষ্ট্র শিশু ধর্ষণ ও বলাৎকার ঠেকাতে পারে না, সেই রাষ্ট্র কীভাবে সিনেমা প্রদর্শন বন্ধে মদদ দেয়- সেই প্রশ্ন তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দর্শকনন্দিত সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এর প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এ প্রশ্ন তুলেন তিনি। সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামে সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

এর আগে গত ৩০ মে জেলা শহরে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বাধায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এর প্রদর্শনী স্থগিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি। এছাড়া ওইদিন রাতে কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন গিয়ে সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ উঠে।
মানববন্ধনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখার মতো একটি সিনেমা বনলতা এক্সপ্রেস। সেই সিনেমাটি কেন বন্ধ করে দেওয়া হলো? আমি যদি প্রশ্ন করি যেই রাষ্ট্র ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ আর বলাৎকার থেকে রক্ষা করতে পারে না, যেই রাষ্ট্রে দুর্নীতি, টাকাপাচার আর ব্যাংকলুট বন্ধ করতে পারেনা- সেই রাষ্ট্র কেনো সিনেমা বন্ধে মদদ দেয়?

তিনি বলেন, আমরা গত দুই বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি একটার পর একটা মাজার ভাঙা হয়েছে, কবর থেকে তুলে নিয়ে লাশ পোড়ানো হয়েছে; আমরা দেখেছি দক্ষিণপন্থা বা ডানপন্থা উগ্রবাদের উত্থান। কিন্তু আমার দেশের মাটি তো এমন ছিল না। এই দেশে সকালবেলা যেমন কোরআন তেলাওয়াত শুনেছি, তেমনি বিকেলবেলা হারমোনিয়াম নিয়ে ছোট-ছোট বাচ্চারা গান প্র্যাকটিস করেছে- সেটাও আমরা দেখেছি। তাহলে এই বাংলাদেশকে কারা মৌলবাদের ভূমি বানাতে চায়?
তিনি আরও বলেন, যেই রাষ্ট্র কোনো অপরাধ বন্ধ করতে পারেনি; যেই রাষ্ট্র ছোট-ছোট শিশুদের বলাৎকার আর ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি, সেই রাষ্ট্র কী করে আজকে বাংলাদেশে যেখানে ধর্মের পাশাপাশি সবরকম সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চলেছে, সেটাকে বন্ধ করে বাংলাদেশকে, পরের প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়ার মদদ দিচ্ছে?
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন, জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, জেলা ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ফাহিম মুনতাসির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইফতিকার জাবেদ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুর্জয় মাহমুদ প্রমুখ।
প্রতিনিধি/এসএস