জেলা প্রতিনিধি
২৪ মে ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী বিজয়নগর, কসবা ও আখাউড়া উপজেলার মাটি লাল হওয়ায় এই অঞ্চলে বেশি কাঁঠালের চাষ করা হয়। চলতি মৌসুমে ফলনও হয়েছে বাম্পার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ৯৯২ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ করা হয়েছে। এ বছর প্রায় ২১ কোটি ৬ লাখ ৯ হাজার টাকার কাঁঠাল বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকার পাশাপাশি কৃষকেরা সঠিকভাবে বাগানের পরিচর্যা করায় এ বছর কাঁঠালের ভালো ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পেয়ে খুশি বাগান মালিকেরা, অন্যদিকে দাম হাতের নাগালে থাকায় ক্রেতারাও স্বস্তিতে।

জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পূর্ব এবং দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তবর্তী লাল পাহাড়ি মাটিতে কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। মধু মাসে জেলার বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণপুর, কালাছড়া, ছতরপুর, পাহাড়পুর, মেরাসানি, আউলিয়া বাজার, চম্পকনগর, সিঙ্গারবিল ও কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর, বায়েক, মন্দবাগ, কায়েমপুর এবং আখাউড়া উপজেলার আজমপুর, আমুদাবাদ, রাজাপুর ও আদমপুর এলাকার প্রতিটি জনপদসহ বাগান গুলোতে ঝুলে আছে ছোট-বড় কাঁঠাল আর কাঁঠাল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার পাশাপাশি রোগ বালাই থেকে মুক্ত হওয়ায় পরিপক্ষ অবস্থায় বাগান থেকে কাঁঠাল বাজারজাত করা হচ্ছে।

কৃষকেরা জানান, রসালো ও মিষ্টি হওয়ায় বাজারে লাল মাটির কাঁঠালের বেশ চাহিদা রয়েছে। বাগান থেকে পাইকারেরা প্রতি এক'শ পিস কাঁঠাল সাইজ অনুযায়ী বিভিন্ন দামে কিনে নিচ্ছেন। এতে বেশ লাভবান হচ্ছেন বাগান মালিকেরা। এসব বাগান থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলা, পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা, নরসিংদী, ভৈরব, শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জের ব্যবসায়ীরা কাঁঠাল কিনে বিভিন্ন যানবাহনে করে নিয়ে যায়।

বিজয়নগরের পাহাড়পুর গ্রামের বাগান মালিক তাসরিফ ইসলাম জানান, এবার ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি দিনই ১'শ থেকে ২'শ কাঁঠাল কাটা হচ্ছে। প্রতি ১'শ কাঁঠাল সাইজ অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিনই কাঁঠাল নিতে বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকারেরা আসছেন। তারা এসব কাঁঠাল বিভিন্ন বাজারে নিয়ে বিক্রি করবেন। ফলন ভালো হওয়ার আমরা লাভবান হবো বলে আশা করছি। তাছাড়া বিজয়নগর এলাকার মাটির গুণাগুণ ভালো হওয়ায় কাঁঠালের ফলন ভালো হয়েছে।

সোহাগ মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা আগেই কাঁঠাল বাগান কিনে রেখেছিলাম। প্রতি ১'শ কাঁঠাল ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দরে কিনেছিলাম। এখন কাঁঠাল পরিপক্ব হওয়ায় পাইকারেরা বিভিন্ন জায়গা থেকে বাগানে আসছে। পাইকারদের কাছে ১'শ কাঁঠাল বিক্রি করছি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা দরে। যদি এই দাম আগামী তিন মাস থাকে তাহলে ভালো লাভবান হব।
কাঁঠাল বাগানে ঘুরতে আসা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আজহার মিয়া বলেন, সীমান্তবর্তী লাল মাটির কাঁঠালের জুড়ি নেই। দামও হাতের নাগালে। ভাবছি যাওয়ার সময় তা কিনে নিয়ে যাব।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের আনন্দ বাজারের কাঁঠাল বিক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, আমি এখানে বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণপুর, কালাছড়া, চতুরপুর, পাহাড়পুর, মেরাসানি, আউলিয়া বাজার এলাকা থেকে কাঁঠাল নিয়ে এখানে আসি। বাজারে প্রতিদিন আড়াইশ থেকে ৩'শ কাঁঠাল বিক্রি করি। এখানকার মানুষ অন্য এলাকার চেয়ে বিজয়নগরের কাঁঠাল বেশি পছন্দ করে। এখানে কাঁঠালের সাইজ দেখে দাম করা হয়। কাঁঠাল বিক্রি করে আমরাও লাভবান।

কাঁঠাল কিনতে আসা বিকাশ মুন্না মিয়া বলেন, অন্যান্য এলাকা বিজয়নগরের কাঁঠাল সবারই পছন্দের। এই সব এলাকার কাঁঠাল মানুষ কিনে বেশি। আমিও এসেছি কাঁঠাল কিনার জন্য।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মুনসী তোফায়েল হোসেন বলেন, মাটির গুণাগুণ ভালো হওয়ায় চলতি বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ৯৯২ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ করা হয়েছে। এ বছর জেলাতে প্রায় ২১ কোটি ৬ লাখ ৯ হাজার টাকার কাঁঠাল বিক্রি করা হবে। চলতি বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়েছে, তাই সম্ভাবনা অর্জিত হবে। জেলার বিজয়নগর, কসবা ও আখাউড়া উপজেলা পাহাড়ি টিলাভূমি সমৃদ্ধ লাল মাটি (অম্ল মাটি) হওয়ায় সেখানের কাঁঠাল বেশি ভালো হয়। এই অঞ্চলে কাঁঠালের আবাদ প্রতি বছরই বাড়ছে।
প্রতিনিধি/এসএস