বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ঢাকা

যে শর্তে কেনা যাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩৫ মণের ‘কালো মানিক’কে 

আশিকুর রহমান মিঠু
প্রকাশিত: ২১ মে ২০২৬, ০৩:০৭ এএম

শেয়ার করুন:

k
নাসিরনগরের ভলাকুট ইউনিয়নের প্রত্যন্ত কান্দি গ্রামের দম্পতি শফিকুল ইসলাম ও জাহেদা খাতুনের সেই ‘কালো মানিক’। ছবি- প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের প্রত্যন্ত কান্দি গ্রামের দম্পতি শফিকুল ইসলাম ও জাহেদা খাতুন। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে একটি গরুকে সন্তানের মতো লালন-পালন করে বড় করেছেন তারা। নাম দিয়েছেন ‘কালো মানিক’। 

বৃহৎ আকারের অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটির ওজন ১৩১২ কেজি বা ৩৫ মণ। দাম হেঁকেছেন ১৮ লাখ টাকা। 


বিজ্ঞাপন


তবে টাকা থাকলেই কেনা যাবে না ‘কালো মানিক’কে। যেহেতু শফিকুল-জাহেদা দম্পতি হালাল উপায়ে গরুটিতে এত বড় করেছেন, তাই শর্ত হলো- হালাল টাকার মালিক কিংবা কোনো সৎ ব্যক্তিই কেবল এটিকে কিনতে পারবেন। 

এই দম্পতি জানান, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে খড়, ভূষি, কাঁচা ঘাস খাইয়ে ২০২২ সাল থেকে ‘কালো মানিক’কে লালন-পালন করছেন তারা। অনেক কষ্ট করে গত চার বছর ধরে গরুটিকে বড় করেছেন। 

তারা আরও জানান, গরুটির দাম ১৮ লাখ টাকা চাইলেও ঢাকার এক ক্রেতা ১১ লাখ টাকা বলেছিলেন। কিন্তু পরে আর যোগাযোগ করেননি।

2


বিজ্ঞাপন


এদিকে বিশাল দেহের ‘কালো মানিক’কে দেখতে প্রতিদিনই ভলাকুট ইউনিয়ন ছাড়াও নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উৎসুক দর্শনার্থীরা ভীড় করছেন শফিকুল-জাহেদা দম্পতির বাড়িতে। গরুটির আকার-আকৃতি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছেন অনেকেই। 

এছাড়া প্রত্যন্ত অজপাড়া গ্রামের একটি খুপরি ঘরে এত বড় গরুকে কীভাবে লালন-পালন করেছেন, এ নিয়েও নানা প্রশ্ন তাদের মনে। 

গরুটিকে দেখতে এসে নাসিরনগর উপজেলা সদরের বাসিন্দা রবিস বলেন, ‘বাড়িটি একেবারে ছোট। ঘরটিও বেশ ছোট। এই ঘরে এত বড় গরুটিকে কীভাবে লালন-পালন করলেন গৃহবধূ জাহেদা!

তিনি জানান, গরুটির মালিকেরা সৎ ক্রেতা খুঁজতেছেন। আমরাও চাই গরুটির ক্রেতা যেন একজন সৎ ও ভালো মানুষ হয়।’

কুন্ডা গ্রামের ইফতি জানান, ‘এ বছর নাসিরনগরে এত বড় গরু বাড়িতে কেউ লালন-পালন করেছে বলে আমার জানা নেই। আমার ধারণা, এটি শুধু নাসিরনগরই নয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মধ্যে গৃহপালিত সবচেয়ে বড় গরু হবে।’

ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুবেল মিয়া জানান, কালো মানিক’ এবার হাঁট কাপাচ্ছে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতি উপায়ে গুরুটিকে লালন-পালন করা হয়েছে। এটি জেলার সবচেয়ে বড় গরু বলে দাবি করেন তিনি। 

রুবেল চেয়ারম্যান বলেন, গৃহপালিত এমন গরু যেন আরও বেশি করে বাড়িঘরে পালন করা হয়, সে ব্যাপারে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সঙ্গে কথা বলে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। 

শফিকুল-জাহেদা দম্পতির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ৩৫ মণের ‘কালো মানিক’কে এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সবচেয়ে বড় পশুর হাট ভাদুঘরে বিক্রির জন্য তোলা হবে।

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর