images

সারাদেশ

স্কুলের অনিয়ম ফাঁস করায় নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর

জেলা প্রতিনিধি

২৩ মে ২০২৬, ১২:৩১ এএম

রাঙামাটির সাজেক ইউনিয়নের ছয়নালছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা ও অনিয়মের চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরার জেরে স্থানীয় এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে পরিবারসহ এলাকা থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আদিবাসী ওই নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নাম রি জাং সি চাকমা। তিনি বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ছয়নালছড়া পাড়ার বাসিন্দা। গত ১৬ মে (শনিবার) এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ছয়নালছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মাত্র একজন প্রধান শিক্ষক এবং একজন অস্থায়ী শিক্ষক দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতির নানা বিষয় নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন রি জাং সি চাকমা।

ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। আর এটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় এই তরুণীর জন্য। অভিযোগ উঠেছে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রি জাং সির ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁকে ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং গ্রাম থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়।

তবে তার ওপর আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীরণ চাকমা। তিনি বলেন, ‘আমি স্কুলটির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছি। বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও একজনকে প্রত্যাহার এবং অন্যজনকে বদলি করা হয়েছে। যার কারণে বর্তমানে একজন শিক্ষক ও আমাকে দিয়েই বিদ্যালয়টি চালাতে হচ্ছে।’ রি জাং সি ফেসবুকে ভিউ পাওয়ার উদ্দেশে মনগড়া কনটেন্ট বানিয়েছেন বলেও দাবি তার।

এই বিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ঘটনাটি তদন্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।

ইউএনও আরও বলেন, ‘বিদ্যালয়টি বর্তমানে আমাদের মনিটরিং কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে। এর বাইরে ভুক্তভোগী তরুণী চাইলে নিজের সুরক্ষায় যেকোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন।’

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনিয়মের একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং একজন নারী অধিকারকর্মীকে হেনস্তা ও নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র ফাঁস করায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। রাঙামাটির এই ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে নজর রাখছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

প্রতিনিধি/এমআই