নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মে ২০২৬, ১২:১৩ এএম
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতারের পর ধর্ষণে অভিযুক্ত মনির স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছেন-আমাকে শয়তানে পেয়েছিল। আদালতেও দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন মনির। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু বকর সিদ্দিকের আদালতে গ্রেফতার মনির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান।
তিনি বলেন, ‘আক্রান্ত শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেছেন। মামলায় মনিরকে দুপুরে আদালতে হাজির করি। আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। এরপর আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়ার বলেন, ‘প্রচলিত অর্থে ধর্ষণ হিসেবে যা বোঝানো হয়, ধর্ষণের সংজ্ঞা কিন্তু দেশে প্রচলিত নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে আরও ব্যাপক। আসামি মনির শিশুটির সঙ্গে যা করেছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে সেটাই আইন অনুযায়ী ধর্ষণ। সুতরাং সেটাকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে হালকা ভাবার সুযোগ নেই।’
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানার নুর হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মনিরকে আটক করে স্থানীয় জনতা। মনিরের বয়স ৪০ বছর। পুলিশ প্রথমে মনিরকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা গ্যারেজের কর্মচারী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারে মনির সেখানকার একটি ডেকোরেশনের দোকানের কর্মচারী।
পুলিশের মতে, শিশুটির বাসার পাশেই ডেকোরেশনের দোকানটির গুদাম। সেখানে মনির আসা-যাওয়ার কারণে শিশুটিকে চিনতেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে ডেকোরেশনের দোকানে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ অভিযোগ পান তারা।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে শুক্রবার সকালে মনিরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আক্রান্ত শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে।
শিশুটির স্বজনরা জানান, দুপুরে তাকে ফুসলিয়ে ওই ব্যক্তি বাসার পাশের একটি ডেকোরেশনের দোকানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পরে শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে এসে তার নানাকে ঘটনা জানায়। নানাসহ আরও লোকজন ডেকোরেশনের দোকানে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করেন।
মনিরকে গ্রেফতার করা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় তুলকালাম কাণ্ড ঘটে। পুলিশ-জনতার সংঘর্ষে মধ্যরাত পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বাকলিয়া এলাকা। পুলিশের একাধিক গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশসহ আহত হন ২০ জনেরও বেশি।
অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার নিজেরাই করবে জানিয়ে মনিরকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখা নিয়ে এ সংঘাতের সূত্রপাত হয় বলে জানান বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কিশোর মজুমদার।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের হাতে আটক মনির শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তাকে শয়তানে পেয়েছিল এমন কথাও বলেন তিনি। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে চরচাক্তাই এলাকায় শত শত লোক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন।
এমআই