জেলা প্রতিনিধি
২২ মে ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমরা অনেকেই এখন বইবিমুখ হয়ে পড়েছি, এমনকি আমি নিজেও এখন প্রিন্টেড পত্রিকার চেয়ে ডিজিটাল ভার্সন বেশি পড়ি। তবে আমাদের সন্তানদের আবার বইমুখী করতে হবে।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী তার স্মৃতিকাতরতা ও বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির সারা বাংলাদেশেই একটি বড় সুনাম ও ঐতিহ্য ছিল। কিন্তু অনাদরে ও অবহেলায় প্রতিষ্ঠানটি আস্তে আস্তে তার গুরুত্ব হারিয়েছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমরা অনেকেই এখন বইবিমুখ হয়ে পড়েছি, এমনকি আমি নিজেও এখন প্রিন্টেড পত্রিকার চেয়ে ডিজিটাল ভার্সন বেশি পড়ি। তবে আমাদের সন্তানদের আবার বইমুখী করতে হবে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, ‘বই কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, এটি আনন্দের উৎস এবং ভাষার দক্ষতা বাড়ানোর প্রধান হাতিয়ার। পড়ালেখার ধরন এখন বদলে গেছে; প্রেজেন্টেশন, থিসিস বা রিসার্চ—সবখানেই ভাষার দখল জরুরি। যে শিক্ষার্থীর শব্দ ও ভাষার ওপর যত বেশি দখল থাকবে, জীবনে তার উন্নতি করার সম্ভাবনা তত বেড়ে যাবে।’
নিজের শৈশব ও ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার ভিত্তি গড়ে তুলেছে এই যশোর ইনস্টিটিউট প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং যশোর সেক্রেটারিয়েট জুনিয়র হাই স্কুল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ফেব্রুয়ারি মাসের ২১শে বইমেলার একটি দিনও আমি মিস করিনি। তরুণ প্রজন্মের উচিত বইয়ের দিকে আরও বেশি মনোনিবেশ করা।’
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ আসমা বেগম, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজন সরকার, যশোর ইনস্টিটিউটের সহসভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলু, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু ও সৈয়দ শাহাজাহান আলী খোকন, লাইব্রেরি সম্পাদক প্রফেসর শেখ জুলফিকার আলী, ক্রীড়া বিভাগীয় সম্পাদক সাহাবুদ্দিন আহমেদ সাবু, নাট্য বিভাগীয় সম্পাদক আলমগীর হোসেন বাবু এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য নাসির উদ্দীন মিঠু, শাহনেওয়াজ আনোয়ার লেনিন, এসএম মুস্তাফিজুর রহমান কবির ও হাবিবুর রহমান রুবেলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেলাটি আগামী তিন দিন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং প্রতিদিন নানা সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
প্রতিনিধি/এমআই