images

সারাদেশ

হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর নড়াইলের কামার পাড়া

জেলা প্রতিনিধি

২২ মে ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহা তথা কোরবানি ঈদকে ঘিরে নড়াইলের ঐতিহ্যবাহী শিঙ্গেশোলপুর কামার পাড়াগুলোতে ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। দিনরাত চলছে লোহা পেটানোর কাজ। কয়লার গনগনে আগুনে পুড়ছে লোহা, আর হাতুড়ির সজোর আঘাতে তৈরি হচ্ছে দা, বঁটি, ছুরি আর চাপাতি। দম ফেলার ফুসরত নেই এ শিল্পের কারিগরদের। নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত এক করে কাজ করছেন স্থানীয় কামারশিল্পীরা।

শুক্রবার (২২ মে) সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে কেউ কয়লার আগুনে বাতাস দিচ্ছেন, কেউ আবার লোহা পেটাচ্ছেন। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ক্রেতারা। কেউ দা, কেউ ছুরি, কেউবা আবার চাপাতি কিনছেন।

কোরবানির পশু জবাই এবং মাংস কাটার প্রধান হাতিয়ার তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় সময়মতো ক্রেতাসাধারণের হাতে তাদের পছন্দের দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতি পৌঁছে দিতেই এই নিরলস প্রচেষ্টা। শুধু নতুন সরঞ্জাম তৈরিই নয়, পুরনোগুলোতে শান দেওয়ার জন্যও অনেকে ভিড় করছেন কামার শালাগুলোতে।

be904c1b-77a8-491c-bf3b-9a3f5814bf64

তবে এবারের বাজারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। জ্বালানি কয়লা, ইস্পাত আর কাঁচা লোহার চড়া দামের কারণে এবার তৈরি পণ্যের দাম কিছুটা বেশি বলে জানান বিক্রেতারা।

শিঙ্গেশোলপুর কামার পাড়ায় দা-ছুরি কিনতে আসা মো. মামুন হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, আমি এখানে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য দা, চাপাতিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে এসেছি। এখানকার জিনিসপত্র বেশ টেকসই ও ভালো মানের হয়, এগুলো ব্যবহার করে কাজ করে আরাম পাওয়া যায়।

কামারশিল্পী সন্তোষ কর্মকার বলেন, লোহা আর কয়লার দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে আমাদের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তারপরও বছরের এই একটা সময়ে ভালো বিক্রির আশায় আমরা ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি, শেষ মুহূর্তে কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারব।

আরও পড়ুন

বীরগঞ্জের কামারপাড়ায় ঘুম নেই

এদিকে কামার শিল্পের এই তীব্র ব্যস্ততাকে গ্রামীণ অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তবে নানা সংকটে থাকা এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সহজ শর্তে ঋণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জারী শিল্পি রওশন বয়াতি বলেন, এই কামার শিল্প আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি আর কোরবানি ঈদের একটা বড় ঐতিহ্য। কিন্তু লোহা ও কয়লার লাগামহীন দামের কারণে কারিগররা টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই দেশীয় ঐতিহ্য ও শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ আর্থিক সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ এবং নজরদারি অত্যন্ত প্রয়োজন।

প্রতিনিধি/এসএস