জেলা প্রতিনিধি
২১ মে ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
দেশের উত্তরাঞ্চলের সমতলভূমির চা শিল্পে ফিরেছে আশার আলো। টানা কয়েক বছরের সংকট কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন চা-চাষিরা। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়া, পঞ্চগড়ে তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র চালু, প্রশাসন ও চা বোর্ডের তদারকি এবং উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে উত্তরাঞ্চলের চায়ে এখন সুদিনের হাতছানি দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের মোট চা উৎপাদনের ২১ দশমিক ৩৩ শতাংশ এসেছে উত্তরাঞ্চলের সমতলভূমি থেকে। পাঁচ জেলায় উৎপাদিত হয়েছে ২ কোটি ২ লাখ ৪২ হাজার ৫২ কেজি চা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫৮ লাখ কেজি বেশি।

পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাট-এই পাঁচ জেলা এখন দেশের তৃতীয় বৃহত্তম চা অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তবে উৎপাদনের দিক থেকে উত্তরাঞ্চল বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
চা বোর্ড জানায়, ২০২৫ সালে দেশে মোট চা উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ৪৯ লাখ কেজি। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চল একাই দিয়েছে ২ কোটির বেশি কেজি চা। ২০২১ সাল থেকে টানা পাঁচ বছর ধরে জাতীয় উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে এ অঞ্চল।
উত্তরাঞ্চলে বর্তমানে রয়েছে ১২টি নিবন্ধিত ও ১৮টি অনিবন্ধিত বড় চা-বাগান। পাশাপাশি ২ হাজার ২২৫টি নিবন্ধিত এবং ৬ হাজার ১৪৬টি অনিবন্ধিত ক্ষুদ্র চা-বাগান রয়েছে। চলতি বছরে চা চাষের জমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৬০০ একরে।

২০২৩ সালে পঞ্চগড়ে দেশের তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র চালু হওয়ার পর বাজার ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে সেখানে সরাসরি নিলাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে এখন পর্যন্ত ৫২টি চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব শিল্পকে ঘিরে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে প্রতি কেজি তৈরি চায়ের গড় মূল্য ছিল ২১৭ টাকা। আর ২০২৬ সালের প্রথম চারটি নিলামে গড় মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৮ টাকায়। একই সঙ্গে চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল সময়ে উৎপাদনও বেড়ে ৩৩ লাখ কেজিতে পৌঁছেছে।
চা-চাষিরা জানান, ২০২৩ সালে কাঁচা চা পাতার দাম নেমে গিয়েছিল কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১২ টাকায়। এতে অনেকেই চা চাষ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছিলেন। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আবারও আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের মধ্যে।

পঞ্চগড় চা-বাগান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিক উদ্দিন বলেন, কয়েক বছর খুব খারাপ সময় গেছে। এখন প্রশাসন ও চা বোর্ডের সহযোগিতায় আবারও চায়ের সুদিন ফিরছে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন বলেন, উত্তরাঞ্চলের চায়ের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা। সরকার এখান থেকে উল্লেখযোগ্য ভ্যাট-ট্যাক্স পেয়েছে। চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় তাদের আগ্রহও বাড়ছে।
উল্লেখ্য, সমতল ভূমিতে চা চাষের এই সাফল্য দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে এবং উত্তরাঞ্চলকে ধীরে ধীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ চা উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছে।
প্রতিনিধি/টিবি