images

সারাদেশ

মেহেরপুরে বোমা সদৃশ বস্তু, হুমকি চিরকুটের আতঙ্ক যেন থামছেই না

জেলা প্রতিনিধি

১৮ মে ২০২৬, ১০:৫২ এএম

মাত্র ১ দিনের ব্যবধানে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় আবারও উদ্ধার হয়েছে বোমা সদৃশ দু’টি বস্তু। একই সঙ্গে মিলেছে হুমকিসূচক চিরকুট। ধারাবাহিক এমন ঘটনায় এলাকাজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার জোড়পুকুরিয়া গ্রামের মধ্যপাড়ায় বাবলু হোসেনের মুদির দোকানের সামনে সন্দেহজনক বস্তু দু’টি দেখতে পান স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে হাঁটতে বের হয়ে কয়েকজন ব্যক্তি দোকানের সামনে লাল টেপে মোড়ানো বস্তু দু’টি দেখতে পান। পাশে রাখা ছিল সাদা কাগজে হাতে লেখা হুমকিসূচক বার্তা। চিরকুটে লেখা ছিল— ‘শেখ হাসিনা আসবে, ৬ মাস সময়, জয় বাংলা।’

এছাড়াও সেখানে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে হুমকিমূলক কথাও লেখা ছিল। চিরকুটে আরও লেখা ছিল, ‘এক ঘণ্টা সময় পাইলে বিএনপি তোদের যে কী হাল করব, লাভলুর মতো তোদের জবাই করব’।

এমন বার্তা দেখে আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয়রা দোকান মালিক বাবলু হোসেনকে বিষয়টি জানান। পরে খবর দেওয়া হয় গাংনী থানায়।

আরও পড়ুন

মেহেরপুরে বোমা সদৃশ বস্তু, হুমকি চিরকুট ও সাদা কাপড় উদ্ধার

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে বোমা সদৃশ বস্তু দুটি ও চিরকুট উদ্ধার করে। পরে পানিভর্তি বালতিতে করে সেগুলো থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

গাংনী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আল মামুন বলেন, উদ্ধার করা বস্তু দু’টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। পানিতে বস্তু দু’টি ভাসছে। এগুলো আসলেই বিস্ফোরক কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া কে বা কারা কী উদ্দেশে এগুলো রেখে গেছে, সেটিও এখনো জানা যায়নি। জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত ৩ মে উপজেলার চরগোয়ালগ্রাম সংলগ্ন মাথাভাঙ্গা নদীর পাড় থেকে অনুরূপ একটি বোমা সদৃশ বস্তু ও রহস্যজনক চিরকুট উদ্ধার করা হয়। পরে ৬ মে ভোরে সীমান্তবর্তী তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের হাজীপাড়ায় ছানোয়ার হোসেন পলাশের বাড়ির গেটের সামনে আরেকটি সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়। সর্বশেষ রোববার (১৭ মে) হাড়াভাঙ্গা গ্রামের হাজীপাড়া এলাকায় ফজলুর রহমানের বাড়ির সামনে বোমা সদৃশ বস্তু, চিরকুট ও সাদা কাপড় উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘন ঘন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে জনমনে আতঙ্ক আরও বাড়বে এবং জেলার সার্বিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রতিনিধি/এসএস