images

সারাদেশ

গরমের বাজারে ফুলকপির দাপট, লাভবান হচ্ছেন চাষিরা

জেলা প্রতিনিধি

১৩ মে ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

যে ফুলকপি একসময় শুধুই শীতের সবজি হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন সেই ফুলকপিই তীব্র গরমের মাঝেও মাঠভর্তি ফলিয়ে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছেন দিনাজপুরের কৃষকরা। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, কৃষি বিভাগের নিবিড় পরামর্শ এবং কৃষকদের উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ে গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষ এখন এলাকায় রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

দিনাজপুর সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের উত্তর মহেশপুর গ্রামের কৃষক ওবায়দুল ইসলাম মাত্র ৩০ শতক জমিতে ‘আইসবল’ জাতের ফুলকপি চাষ করে দেখিয়েছেন নতুন এক সফলতার গল্প। মাত্র ৬০ দিনের মধ্যেই তার খেতজুড়ে ফুটে উঠেছে সাদা ফুলকপির সমারোহ। বাজারে মিলছে ভালো দাম, আর লাভের মুখ দেখে আশাবাদী হয়ে উঠছেন এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও।

খরিপ-১ মৌসুমে প্রায় ৫ হাজার ফুলকপির চারা রোপণ করেন কৃষক ওবায়দুল ইসলাম। কৃষি বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধান ও আধুনিক পরিচর্যার ফলে মাত্র দুই মাসের মধ্যেই খেত ভরে ওঠে পরিপক্ব ফুলকপিতে।

বর্তমানে তার খেত থেকেই পাইকার ও সবজি বিক্রেতারা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে ফুলকপি কিনে নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে প্রায় এক লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।

কৃষক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মার্চ মাসের শেষদিকে জমি প্রস্তুত করে কৃষি বিভাগের পরামর্শে আইসবল জাতের চারা রোপণ করা হয়। জমিতে ফেরোমন ফাঁদ, আঠা ফাঁদ ও লাইট ট্র্যাপ ব্যবহার করে নিরাপদ উপায়ে পোকামাকড় দমন করা হয়েছে। পাশাপাশি জৈব সার ও পরিমিত বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে সবজির গুণগত মানও বজায় রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, মাত্র দুই মাসে এই ফুলকপি বাজারজাত করা সম্ভব হয়েছে। ৩০ শতক জমিতে প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সব খরচ বাদ দিয়ে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি। বাজারে গ্রীষ্মকালীন ফুলকপির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আগামী বছর আরও বেশি জমিতে এই ফুলকপি চাষ করব।

প্রতিবেশী কৃষক বিদ্যুৎ রহমান বলেন, ওবায়দুল ইসলাম একজন পরিশ্রমী ও আদর্শ কৃষক। গরমের সময় ফুলকপি চাষ সম্ভব, এটা আগে কল্পনাও করিনি। তার জমির ফলন দেখে আমি নিজেও অনুপ্রাণিত হয়েছি। আগামী বছর অন্তত এক একর জমিতে গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষের পরিকল্পনা করছি।

আরও পড়ুন

রাজবাড়ীতেই ফলছে ২০৪ জাতের বিদেশি আঙুর

একই গ্রামের কৃষক মহেন্দ্রনাথ জানান, গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষে উঁচু জমি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা থেকে ফসল রক্ষা করতে হয়। আমি গত বছর ২০ শতক জমিতে এই ফুলকপি চাষ করে ভালো লাভ পেয়েছিলাম। এবারও চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

আরেক কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, বাজারে যখন অন্য সবজির দাম কমে যায়, তখন গ্রীষ্মকালীন ফুলকপির দাম ভালো থাকে। ফলে কৃষকরা দ্রুত লাভবান হতে পারছেন। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে এই চাষ আরও বিস্তৃত হবে।

স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, দিনাজপুরে গরমের সময় ফুলকপি পাওয়া এখন ভোক্তাদের জন্য বড় সুবিধা হয়েছে। বাজারে এর চাহিদা অনেক বেশি। প্রতিদিন খেত থেকেই ফুলকপি সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে যাচ্ছি।

দিনাজপুর সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু বোরহান বলেন, টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, চারা, সার ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ সবজি উৎপাদনের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি এখন দিনাজপুর অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অল্প সময়ে অধিক লাভ পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। একই সঙ্গে ভোক্তারাও মৌসুমের বাইরে তাজা ফুলকপি পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন।

প্রতিনিধি/এসএস