জেলা প্রতিনিধি
১২ মে ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের মারধরে মুগ্ধ তালুকদার (১১) নামে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে।
তাকে প্রথমে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠান।
আহত মুগ্ধ তালুকদার মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর হানিফ তালুকদারের ছেলে। সে ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।
মুগ্ধর বাবা মা কাজের সন্ধানে ঢাকায় বসবাস করেন। আর মুগ্ধ তার নানার বাড়ি বরান্তর গ্রামে থেকে পার্শ্ববর্তী রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বেলা ১২টার দিকে বিদ্যালয়ের ভেতরে সহকারী শিক্ষক কাউসার আহমেদ ফ্রিজে থাকা বরফে জমাট বাঁধা পানির বোতল দিয়ে মুগ্ধর মাথায় একাধিকবার আঘাত করেন। অভিযোগ রয়েছে, অন্য শিক্ষার্থীদের সামান্য দুষ্টুমির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মুগ্ধকে মারধর করেন।
আঘাতের পরপরই মুগ্ধ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে সহপাঠী ও উপস্থিত লোকজন মাথায় পানি ঢেলে তার জ্ঞান ফেরান। অভিযোগ রয়েছে, এরপর শিক্ষক তাকে বাড়িতে কিছু না বলতে হুমকি দিয়ে পাঠিয়ে দেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ি ফেরার পর রাতে কয়েক দফা মুগ্ধ জ্ঞান হারায়, বমি করে এবং তার কান দিয়ে রক্ত বের হয়। এতে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে রাত কাটান। মঙ্গলবার সকালে তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. পার্থ সরকার বলেন, মাথায় আঘাতটি জটিল মনে হচ্ছে। রাতে বমি করেছে, কয়েকবার অজ্ঞান হয়েছে। এসব লক্ষণ ভালো নয়। সিটি স্ক্যান করে অবস্থা বুঝতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রোগীর অবস্থা বিবেচনায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী জানায়, শিক্ষক কাউসার উচ্ছৃঙ্খল ধরনের। প্রায়ই শিক্ষার্থীদের এভাবে মারধর করেন তিনি।

আহত মুগ্ধর খালা মুক্তা খান বলেন, মুগ্ধর বাবা-মা এলাকায় থাকে না। আমরাই তার গার্ডিয়ান। পোলাপানের দুষ্টুমির কারণে ফ্রিজে থাকা বরফে জমাট বাধা পানির বোতল দিয়ে মুগ্ধর মাথায় একাধিকবার আঘাত করেন শিক্ষক কাউসার। সঙ্গে সঙ্গেই জ্ঞান হারায় মুগ্ধ। সহপাঠী ও অন্যরা মিলে পানি ঢেলে তার জ্ঞান ফেরায়। বাড়িতে ফেরার সময় হুমকি দিয়ে বলে- বাড়িতে এসব বললে আবার পেটাব এবং পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেব। রাতে আরও কয়েকবার অজ্ঞান হয়েছে মুগ্ধ। আমরা এ ঘটনায় সঠিক বিচার চাই।
অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার আহমেদদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলার মোবাইলফোনে কল করা হলে তিনি বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমার সঙ্গেই রয়েছেন, এ বিষয়ে কথা বলছি তার সঙ্গে। বিষয়টা আমি দেখছি। নেত্রকোনায় সাংবাদিকের সভাপতি-টবাপতিসহ আমার অনেক নাতি-নাতকর সাংবাদিক আছে। সবকিছুর মধ্যে আপনারা হাত দিলে কেমনে চলব? বিষয়টা সমাধান করতে দেন। আগামীকাল শিক্ষা অফিসার বিষয়টা তদন্তে যাবেন। এটা আমি দেখছি।
বিষয়টি অবহিত করলে খালিয়াজুরী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আজিমেল কদর (চলতি দায়িত্ব) বলেন, এখনো এ বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। আপনার থেকেই প্রথম জানলাম। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস