মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ঢাকা

পড়া না পারায় শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটুনি ও লাথি, অভিযুক্ত শিক্ষক অবরুদ্ধ

জেলা প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

শেয়ার করুন:

পড়া না পারায় শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটুনি ও লাথি, অভিযুক্ত শিক্ষক অবরুদ্ধ
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. তাছিন মুন্সী (১৩)।

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পড়া না পারার অভিযোগে মো. তাছিন মুন্সী (১৩) নামে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়ে ও লাথি মেরে জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থী বর্তমানে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


​বিদ্যালয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার প্রথম পিরিয়ড চলাকালীন সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক মো. আহাদ হোসেন শিক্ষার্থীদের পড়া ধরেন। পড়া না পারায় তাছিনকে প্রথমে ১০ থেকে ১৫টি বেত্রাঘাত করেন তিনি। এরপর তাছিন প্রতিবাদ করে বলে, অন্যদের তুলনায় আমাকে কেন বেশি মারলেন? এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক তাকে বেঞ্চের ওপর দাঁড় করিয়ে পুনরায় পেটাতে থাকেন। একপর্যায়ে তাকে মেঝেতে ফেলে অমানবিকভাবে লাথি মারেন ওই শিক্ষক। সহপাঠীরা বাধা দিতে গেলে তাদেরও লাঞ্ছিত করা হয়।

​আহত শিক্ষার্থী তাছিন মুন্সী মৌরাট ইউনিয়নের মালঞ্চি এলাকার মো. সবুজ মুন্সীর ছেলে। অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আহাদ হোসেন কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের খরখরিয়া গ্রামের আহম্মদ আলী খানের ছেলে।

​ঘটনাটি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে গণধোলাইয়ের উপক্রম হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষক নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে আটকে (অবরুদ্ধ) রাখেন।

​আহত শিক্ষার্থীর সহপাঠী মো. সিয়াম মিয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, স্যার সাধারণত পড়া না পারলে দুইটা বেত মারেন। কিন্তু তাছিনকে অনেক বেশি মারছিলেন। তাছিন কারণ জানতে চাইলে স্যার তাকে বেঞ্চে দাঁড় করিয়ে মারেন এবং পরে মেঝেতে ফেলে লাথি মারেন। আমরা ঠেকাতে গেলেও আমাদের মারধর করেন।


বিজ্ঞাপন


​হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাছিনের বাবা মুন্সী জাহিদুল ইসলাম সবুজ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন,ছেলের পিঠে অসংখ্য বেতের দাগ, কয়েকটি জায়গা থেকে রক্ত বের হচ্ছিল। একজন শিক্ষক কীভাবে এতটা নিষ্ঠুর হতে পারেন? আমি এর বিচার চাই।

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আহাদ হোসেন মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, পড়া না পারায় প্রথমে মেরেছিলাম। কিন্তু পরে সে আমার মাকে নিয়ে গালাগাল করায় আমি মেজাজ হারিয়ে ফেলি। যা হয়েছে তার জন্য আমি অনুতপ্ত এবং ভুল স্বীকার করছি।

​পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল খালেক তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করেছেন। তিনি বলেন, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন তিনি বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন। শিক্ষার্থীর ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

​মৌরাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. শাজাহান মণ্ডল জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং শিক্ষককে আপাতত বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর