images

সারাদেশ

গাইবান্ধায় ঈদ ঘিরে গবাদিপশু পরিচর্যায় ব্যস্ত খামারিরা

জেলা প্রতিনিধি

১১ মে ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন গাইবান্ধার সাতটি উপজেলার খামারিরা। তারা প্রাকৃতিক উপায়ে দেশীয় খাবার খাওয়ায়ে কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তবে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এরপরও বাজারমূল্য অনুকূলে থাকলে লাভের আশা করছেন খামারিরা। 

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় অসংখ্য খামারগুলোতে এখন চলছে গরু পরিচর্যার ব্যস্ততা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মালিক-শ্রমিকেরা গরুর গোসল-খাবার প্রস্তুত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসাসেবার কাজে ব্যস্ত আছেন। ঘাস, খড়, ভুসি, খৈল, চিটাগুড়সহ দেশীয় উপায়ে তৈরি খাবার খাওয়ানো হচ্ছে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুকে। 

জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের তথ্যমতে, এ বছর কোরবানি উপলক্ষ্যে ১৭ হাজার ৩৩১ খামারে ষাঁড় ৩৭ হাজার ৬৬০, বলদ ৩ হাজার ৫৭২, গাভি ২২ হাজার ৪৬০, মহিষ ১৫৩, ছাগল ১ লাখ ২ হাজার ৯৩৮ ও ভেড়া ১০ হাজার ২৮৯টি, দুম্বা ৪টি ও অন্যান্য ৭টি মজুদ আছে।

উল্লিখিত কোরবানিযোগ্য গরু-মহিষ-ছাগল ও ভেড়া বেচাকেনার জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে ৩২ টি হাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ টি স্থায়ী ও ১৩টি অস্থায়ী হাট রয়েছে। এছাড়া সরাসরি খামারে ও অনলাইনের মাধ্যমে আরও বেশ কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পশু কেনাবেচা হবে। তবে এখনো জমে ওঠেনি এই হাটগুলো।

সম্প্রতি গাইবান্ধার দাড়িয়াপুর, লক্ষ্মীপুর, সাদুল্লাপুর, ধাপেরহাট, মাঠেরহাট, ভরতখালিসহ আরও বিভিন্ন হাটে দেখা যায়- কোরবানি পশু কেনাবেচার জন্য নিরাপত্তা বেষ্টনীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসব হাটে কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে ষাঁড়, বলদ, মহিষ, গাভি, ছাগল ও ভেড়াসহ খামারে দুম্বা কেনাবেচা হবে। আর কয়েকদিন পরই পুরোদমে জমে ওঠবে বলে হাট ইজারাদার সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

সাদা ধবল গরুর টানে আজও মিরকাদিমে ছোটেন ধনাঢ্যরা

তবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগ, অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী প্রত্যেকটি পশুরহাটে দালাল ও ফড়িয়া মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে তারা ঠকে যাওয়ার শঙ্কায় ভুগছেন। হাটে আসা দালালরা মালিকদের সঙ্গে রফাদফা করে পশু হাতে নেন। ওই দামের চেয়ে বেশি বিক্রিত টাকা দালালদের পকেটে ঢুকছে বলে একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ। এ থেকে পরিত্রাণ চান তারা।

খামারি সাজ্জাদ রহমান রাসেল বলেন, আসন্ন ঈদে আমার খামারে কোরবানিযোগ্য ৭ গরু রয়েছে। ইতোমধ্যে গরুগুলোর পরিচর্যা অব্যাহত রয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু পালনে খরচ বেড়েছে। তবে এবার হাটে দাম ভালো থাকলে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাহিরুল ইসলাম জাহিদ নামের আরেক খামারি জানান, তার খামারে কোরবানিযোগ্য ৪টি দুম্বা প্রস্তুত রয়েছে। এগুলো বিক্রির জন্য এখন পর্যন্ত গ্রাহক পাওয়া যায়নি। যারাও আসছেন তারা আশানুরূপ দাম হাঁকাচ্ছেন না। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন এই উদ্যোক্তা।

গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ জেলায় চাহিদা পূরণ রেখেও অতিরিক্ত ৩৯ হাজার ৪৮৩ টি কোরবানি পশু মজুদ আছে। আশা করছি, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও দেশের বিভিন্ন জায়গা এসব পশুর চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে বিক্রয়যোগ্য হাটগুলোতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল দল প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে দুর্বৃত্তরা জাল টাকা ছড়িয়ে দিয়ে যেন ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে প্রতারণা করতে না পারে, সেজন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা থাকবে। একইসঙ্গে হাটগুলোতে দালাল চক্র প্রতিরোধেও কাজ করা হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

প্রতিনিধি/এসএস