images

সারাদেশ

কাপাসিয়ায় খুন হওয়া ৫ জনের দাফন গোপালগঞ্জে সম্পন্ন

জেলা প্রতিনিধি

১০ মে ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হলো গাজীপুরের কাপাসিয়ায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া মা এবং তার তিন সন্তানসহ পাঁচজনকে। 

রোববার (১০ মে) বেলা ১১টার দিকে জেলার সদর উপজেলার পাইককান্দি মাদরাসা মাঠে জানাজা শেষে উত্তর চরপাড়া নতুন কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

এর আগে শনিবার (৯ মে) সকালে গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে একটি বহুতল বাড়ি থেকে ওই পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

তারা হলেন গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি গ্রামের শাহাদাত হোসেন মোল্লার মেয়ে শারমিন আক্তার (৩০), নাতনি মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) ও ছেলে রসুল মিয়া (২৩)।

Screenshot_2026-05-10_162058
নিহতদের দাফনের জন্য পাশাপাশি খোড়া হয় পাঁচটি কবর

এ ঘটনায় শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজনকে আসামি করে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন শাহাদাত হোসেন। 

ফোরকান গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। ঘটনার পরপরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

শনিবার মরদেহ উদ্ধারের পর নেওয়া হয় গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের মর্গে। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে রাতে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় মরদেহগুলো গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়। 

রোববার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নিহত পাঁচজনের মরদেহবাহী দুটি অ্যাম্বুলেন্স গোপালগঞ্জের পাইককান্দি ইউনিয়নের উত্তর চরপাড়া গ্রামে পৌঁছায়। এসময় নিহতদের একনজর দেখতে গ্রামবাসীর ভিড় লেগে যায়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর আগে ফোরকানের সঙ্গে শারমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কয়েক বছর ঢাকায় বসবাস করলেও ছয় মাস আগে তারা গাজীপুরের কাপাসিয়ায় থাকা শুরু করেন। ফোরকান প্রাইভেটকার চালিয়ে সংসার চালাতেন।

Screenshot_2026-05-10_162121
পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারি

শারমিনের বাবা শাহাদাত হোসেন মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ঘটনার আগের দিন রাত প্রায় ৯টার দিকে মেয়ে শারমিন তাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, ‘আব্বা, আমরা ২৪ মে বাসা ছেড়ে চলে আসব।’ 

পরদিন সকালে ফোরকানের ভাই জব্বার মোল্লা ফোন করে দ্রুত শারমিনের বাসার খোঁজ নিতে বলেন। এরপর তিনি বড় মেয়েকে ঘটনাস্থলে পাঠান। কিছুক্ষণ পর মেয়ের কাছ থেকে ফোন পেয়ে জানতে পারেন, পরিবারের সব শেষ হয়ে গেছে।  

শাহাদাত হোসেন মোল্লা বলেন, ‘আমার মেয়ে–ছেলে, নাতনিদের জীবন শেষ করে দিয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

এদিকে পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হারিয়ে বিলাপ করছেন নিহতদের স্বজনরা। মরদেহ দেখতে এসে শোকে কাতর হয়ে পড়ছেন প্রতিবেশীরাও। 

এএইচ