গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের মা ও তিন সন্তানসহ পাঁচজনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে পরকীয়া, মাদক এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নিহতরা হলেন—গোপালগঞ্জের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (২৮), তাদের তিন কন্যাসন্তান মিম খানম (১৪) , উম্মে হাবিবা ওরফে মারিয়া (৮), ফারিয়া (দেড় বছর) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মোল্লা (২২)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাতার প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করতেন প্রাইভেটকার চালক ফোরকান ও তার পরিবার। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানে বেড়াতে আসেন শারমিনের ভাই রসুল মিয়া। রাতে তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা দেখতে পেয়েছিলেন প্রতিবেশীরা। শনিবার সকালে বাড়িতে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা ভেতরে গিয়ে রক্তাক্ত মরদেহগুলো পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে নিহত শারমিনের পরিবার ও পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পিবিআই ও সিআইডিসহ একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ফোরকান মাদকাসক্ত ছিলেন। শুক্রবার রাতে মাদক সেবন করে স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালককে কুপিয়ে হত্যা করে তিনি পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার সময় স্বজনদের মোবাইল ফোনে হত্যাকাণ্ডের খবরও জানান তিনি।
শারমিনের বোনের ছেলে সাকিব হোসেন জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান যে, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। খবর পেয়ে স্বজনরা ওই বাড়িতে গিয়ে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান। ঘরের মেঝেতে তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলের সাথে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পড়ে ছিল বিছানায়।
বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। ঘটনাস্থল থেকে দেশি মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোমল পানীয়র বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মরদেহের পাশে কিছু প্রিন্ট করা কাগজ পাওয়া গেছে। ওই কাগজ থেকে জানা যায়, ফোরকান এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ এনে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
একই সাথে ৫ জনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে শত শত এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। সাবেক কাপাসিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান পেরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার দাবি করেন।
কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গৃহকর্তা ফোরকান মিয়াই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। মাদক, পরকীয়া ও আর্থিক লেনদেন এই তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে তদন্ত চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক দুই ব্যক্তি ফোরকানের সাথে গাড়ি ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন।
জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে অভিহিত করেছেন। ইতোমধ্যে মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/একেবি




