ঢাকা মেইল ডেস্ক
১০ মে ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে যখন পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। প্রশাসনিক তৎপরতা ও ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতার সমন্বয়ে গভীর রাতেই নিহতদের মরদেহ পৌঁছে দেওয়া হয় তাদের নিজ জেলা গোপালগঞ্জে।
শনিবার (০৯ মে) সকালে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ৫ জনের লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন, কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না তাসনীম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাহিদুল হক এবং জেলা প্রশাসনের দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন। ঘটনার ভয়াবহতা দেখে কর্মকর্তারাও স্তম্ভিত হয়ে পড়েন।
এদিকে নিয়ম অনুযায়ী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুপুর ২টার পর ময়নাতদন্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকে। কিন্তু নিহতদের মরদেহে গুরুতর জখম থাকায় দ্রুত পচনের আশঙ্কা দেখা দিলে জেলা প্রশাসক নিজেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিশেষ ব্যবস্থায় রাতেই পাঁচটি মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্নের ব্যবস্থা করেন।
ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো গোপালগঞ্জে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে পিকআপ ভ্যান ব্যবহারের চিন্তা করা হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও দীর্ঘ পথের বিষয়টি বিবেচনায় নেন জেলা প্রশাসক। বৃষ্টি হলে মরদেহগুলোর অমর্যাদা ও পচন ত্বরান্বিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে তিনি ব্যক্তিগত তদারকিতে দুটি আধুনিক ফ্রিজিং ভ্যানের ব্যবস্থা করেন।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, মানুষ চলে গেলেও তার মরদেহের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
শুধু পরিবহন নয়, দাফন ও মরদেহ পরিবহনের সার্বিক ব্যয়ের ব্যবস্থাও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।
নিহতরা হলেন— গোপালগঞ্জ জেলার পাইককান্দি গ্রামের বাসিন্দা শাহাদত মোল্লার মেয়ে শারমিন খানম (৩৫), তার ভাই রসুল (২২), এবং শারমিন-ফোরকান দম্পতির তিন কন্যা মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২)।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শারমিনের স্বামী ফোরকান এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গভীর রাতে যখন ফ্রিজিং ভ্যানগুলো গোপালগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেয়, তখন উপস্থিত স্বজন ও এলাকাবাসীর অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শোকের এই কঠিন সময়ে জেলা প্রশাসনের দ্রুত, সংবেদনশীল ও মানবিক ভূমিকা স্থানীয় মানুষের মাঝে প্রশংসিত হয়েছে ব্যাপকভাবে।
/এএস