images

সারাদেশ

ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ গেল কিশোরগঞ্জের রিয়াদের, অধরাই রইল স্বপ্ন

জেলা প্রতিনিধি

১০ মে ২০২৬, ০৮:২৬ এএম

উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছেড়েছিলেন কিশোরগঞ্জের তরুণ রিয়াদ রশিদ। স্বপ্ন ছিল রাশিয়ার ‘লাল পাসপোর্ট’ অর্জন করে স্থায়ীভাবে সেখানে বসবাস করবেন, পরে পরিবারকেও নিয়ে যাবেন নিজের কাছে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় প্রাণ হারাতে হয়েছে ২৮ বছর বয়সী এই যুবককে।

রিয়াদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের বাঁশহাটি গ্রামে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রশিদের ছেলে।

Capture

পরিবারের সদস্যদের দাবি, অভাব-অনটন দূর করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন রিয়াদ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বিদেশের মাটিতে তার জীবনাবসান ঘটে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরে একটি কোম্পানির মাধ্যমে রাশিয়ায় যান রিয়াদ। সেখানে যাওয়ার পর একপর্যায়ে তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরে তাকে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী এলাকায় পাঠানো হয়। গত ২ এপ্রিল ড্রোন হামলায় রিয়াদসহ আরও দুই বাংলাদেশি নিহত হন বলে সহকর্মীদের মাধ্যমে জানতে পারে পরিবার। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় সম্প্রতি।

রিয়াদের বড় ভাই মামুনুর রশীদ রবিন জানান, গত ২৯ এপ্রিল পরিবারের সঙ্গে রিয়াদের শেষবার কথা হয়েছিল। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তাদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। এরপর থেকেই তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

Capture2

তিনি বলেন, আমরা পরে সহকর্মীদের মাধ্যমে জানতে পারি ড্রোন হামলায় ও মারা গেছে। মরদেহ দেশে আনা সম্ভব কি না জানতে চাইলে তারা জানায়, হামলার পর শরীরের কিছুই অবশিষ্ট থাকেনি। শুধু ছাই হয়ে গেছে।

এ খবর নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। গ্রামের বাড়িতে চলছে আহাজারি। প্রতিবেশী ও স্বজনরা পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে ভিড় করছেন।

রিয়াদের স্বজনরা জানান, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় বিদেশে গিয়েছিলেন তিনি। ভবিষ্যতে রাশিয়ার নাগরিকত্ব পাওয়ার স্বপ্নও ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন পরিণত হয়েছে বিষাদে।

পরিবারের সদস্যরা এখন অন্তত রিয়াদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, পরিবারের জন্য জীবন বাজি রেখে বিদেশে যাওয়া ছেলেটির মৃত্যু যেন অন্তত কোনো স্বীকৃতি পায়।

97de3710-93db-416e-bcf8-7c42bebd7b1d

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শান্ত স্বভাবের ও পরিশ্রমী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন রিয়াদ। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় যাওয়া রিয়াদ শেষ পর্যন্ত আর ফিরে আসেননি। ‘লাল পাসপোর্টের’ স্বপ্নের বদলে পরিবারের হাতে রয়ে গেছে কেবল একরাশ শোক আর প্রিয়জন হারানোর বেদনা।

জাফরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, রিয়াদ রশিদ আমার স্নেহের ছোট ভাই। ঘটনাটি জানার পর তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতার সুযোগ থাকলে সে ব্যবস্থা করবো।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবির বলেন, পুলিশ নিহত রিয়াদ রশিদের বাড়িতে গিয়েছিল। পরিবারের সূত্রে মৃত্যুর বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

প্রতিনিধি/টিবি