জেলা প্রতিনিধি
০৯ মে ২০২৬, ০১:১১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ মাদারীপুরে তার গ্রামের বাড়িতে দাফনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) বাদ আসর মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হবে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
বৃষ্টিকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে সকাল থেকেই তার বাড়িতে আসছেন আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা। এদিকে মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর খবরে কবর খোঁড়ার কাজও চলছে।
জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা-মা ও স্বজনরা। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ প্রথমে ঢাকার মিরপুরে তাদের বাসায় নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে মরদেহ মাদারীপুরের গ্রামের বাড়িতে আনা হবে। গ্রামে বাদ আছর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জানাজা ও দাফনের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে।
জানা যায়, ৭ মাস আগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। এরপর উচ্চতর ডিগ্রির জন্য পাড়ি জমান আমেরিকায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ পাওয়ার সুবাধে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে সহপাঠি জামিল আহম্মেদ লিমনের সঙ্গে। সেখানে লিমনের সঙ্গে এক মার্কিন নাগরিক রুমমেটের সঙ্গে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এই জেরে গত ১৬ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টিকে ভার্সিটি ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এর ৮ দিন পর শুক্রবার লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে আমেরিকার পুলিশ। একদিন পর ঘটনাস্থল পাওয়া রক্তের ডিএনএ পরীক্ষা শেষে বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিষয়টি জানতে পেরে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন নিহত বৃষ্টির ভাই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ হাসান প্রান্ত। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হিশাম নামে যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিক আটক করেছে দেশটির পুলিশ। পরে ৩০ এপ্রিল বৃষ্টির লাশ উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
প্রসঙ্গত, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোঁয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামে জহির উদ্দিন আকন্দের একমাত্র মেয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। বৃষ্টির বাবা একটি এনজিওতে চাকুরির সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর মিরপুর সাড়ে ১১ পল্লবীতে বসবাস করেন।
প্রতিনিধি/টিবি