জেলা প্রতিনিধি
০৫ মে ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
হবিগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। জেলার বিস্তীর্ণ হাওরের ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে রোদের অভাবে মাড়াই করা ধানও শুকাতে না পারায় সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে জলে-স্থলে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসেবে, জেলার মোট বোরো জমির প্রায় ২০ শতাংশ প্লাবিত হয়ে অন্তত ৪৭৬ কোটি টাকার ধান নষ্ট হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের তথ্য বলছে, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
জানা যায়, জেলার ৪৪টি বড় হাওরে এ বছর প্রায় ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল, যা থেকে প্রায় ৫ লাখ ২৯ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন চাল পাওয়ার আশা করা হয়েছিল। এই উৎপাদনের সম্ভাব্য বাজারমূল্য ছিল প্রায় ২ হাজার ৩৮৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। কিন্তু মৌসুমের শেষ সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই আশায় বড় ধাক্কা লেগেছে।
এপ্রিলের মাঝামাঝিতে ধান পাকতে শুরু করলে শিলাবৃষ্টিতে প্রথম ধাক্কা খান কৃষকেরা। এরপর গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে একের পর এক হাওর প্লাবিত হতে থাকে। খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে এক রাতেই বানিয়াচং উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক ছোট হাওর তলিয়ে যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেবে, জেলার অন্তত ২৫টি হাওরের ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮০ মেট্রিক টন ধান বা ১ লাখ ৫ হাজার ৯২০ মেট্রিক টন চাল নষ্ট হয়েছে।
এদিকে, বন্যা পরিস্থিতি কিছু এলাকায় স্থিতিশীল থাকলেও নতুন করে জেলার শায়েস্তাগঞ্জ ও লাখাই উপজেলায় জমি প্লাবিত হচ্ছে। উজানের ঢলে সুতাং নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্রতিদিনই নতুন নতুন বোরো জমি পানির নিচে চলে যাচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো প্রস্তুত হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ২১ হাজারের বেশি কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
প্রতিনিধি/টিবি