বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

হবিগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে ৫ হাজার হেক্টর বোরো জমি প্লাবিত

জেলা প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

শেয়ার করুন:

হবিগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে ৫ হাজার হেক্টর বোরো জমি প্লাবিত

হবিগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, গত কয়েক দিনের অকাল বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার হেক্টর ধানি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে জেলার হাজার হাজার কৃষক এখন চরম অনিশ্চয়তা ও দিশেহারা অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজানের ঢলে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাওর প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে বুধবার বিকেলে বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর সংলগ্ন খোয়াই নদীর বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করায় মুহূর্তেই কয়েক শত একর ফসলি জমি তলিয়ে যায়। আকস্মিক এই পানি বৃদ্ধিতে কৃষকরা প্রস্তুতির সুযোগ পাননি। বর্তমানে অনেক এলাকায় কৃষকদের কোমরসমান কিংবা বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটতে দেখা যাচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে দেখা গেছে, হাওরের চারদিকে এখন শুধু পানি আর পানি। তীব্র বাতাসের কারণে ধানগাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ায় ফসল সংগ্রহ করতে দ্বিগুণ শ্রম লাগছে। এর ওপর যুক্ত হয়েছে চরম শ্রমিক সংকট। বজ্রপাতের ভয়ে অনেক শ্রমিক মাঠে নামতে চাচ্ছেন না। যারা কাজ করছেন, দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজে থাকায় তারা চর্মরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।

ভুক্তভোগী কৃষক সমুজ মিয়া ও রিপন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কৃষি বিভাগ থেকে যখন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, তখন আমাদের আর কিছু করার ছিল না। চোখের সামনে সারা বছরের আহার পানির নিচে চলে যাচ্ছে, এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কিছু নেই।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ধান, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা। তবে ইতোমধ্যে ৫ হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে যাওয়ায় এবং মাঠের ৪৯ শতাংশ ধান এখনও কাটা বাকি থাকায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী ছায়েদুর রহমান জানান, কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার নিচে থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার কারণে কেটে রাখা ধান শুকানোর জায়গা না থাকায় অনেক কৃষকের ধান খলাতেই পচে যাচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


কৃষকদের মতে, দ্রুত সরকারি সহায়তা এবং ধান কাটার জন্য পর্যাপ্ত হারভেস্টার মেশিন বা শ্রমিকের ব্যবস্থা করা না গেলে জেলার সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর