জেলা প্রতিনিধি
০১ মে ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
যশোরের মণিরামপুরে হরিহর নদীর মাটি নিলামে বিক্রির সমঝোতার (নেগোসিয়েশনের) অতিরিক্ত টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৌর শহরে এ সংঘর্ষ হয়।
এতে বিএনপি-জামায়াতের অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হন। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে এ ঘটনায় বিএনপি এবং জামায়াত একে অপরকে দোষারোপ করেছে।
এদিকে, শুক্রবার (১ মে) ঘটনায় জড়িতদের আটক ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হকের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। সমাবেশ থেকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন গাজী এনামুল। বেধে দেওয়া সময়ে জড়িতদের আটক না করলে কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন জানান, হরিহর নদী খননের পর নদীর দুই তীরের অতিরিক্ত মাটি নিলাম আহ্বান করা হয়। সে মোতাবেক বৃহস্পতিবার চারটি লটে মোট ৫০ লাখ ঘনফুট মাটি বিক্রির প্রকাশ্য নিলাম দুপুর থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শেষ হয়। এ নিলামে বিশেষ করে জামায়াত এবং বিএনপির মাটি ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।
নিলামে চারটি লটে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে টেন্ডার (মাটি) পান রবিউল ইসলাম বাধাঘাটা ব্রিজের কাছে পাঁচ লাখ টাকায়, রাজগঞ্জ ব্রিজের কাছে জাহাঙ্গীর বিশ্বাস ৭৭ হাজার টাকায়, বাকোশপোলে সাইফুল ইসলাম ১৯ লাখ ৬১ হাজার ২১৬ টাকায় এবং নিমতলা ঘাটে শরিফুজ্জামান পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ৭২৬ টাকায় মাটির টেন্ডার পান।
সূত্র জানায়, পরে আলিয়া মাদরাসা মাঠে বিএনপি এবং জামায়াতের মাটি ব্যবসায়ীরা ওই মাটি নিজেদের মধ্যে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে অতিরিক্ত দশ লাখ টাকা লাভে বিক্রি করেন। এ সময় সেখানে জামায়াত এবং বিএনপির কয়েকশ নেতাকর্মীর উপস্থিতি হন। সূত্র জানায়, লাভের ১০ লাখ টাকা জামায়াত এবং বিএনপির কতিপয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত কর্মীদের মাঝে বিতরণ শুরু করেন। এক পর্যায়ে টাকা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তখনও সেখানে দুই থেকে তিনশ’ লোক বাকি থাকে টাকা নিতে। ফলে বঞ্চিতরা হৈচৈ শুরু করে।
অভিযোগ রয়েছে, তরকারি বাজারে জামায়াতের নেতাকর্মীদের হাতে ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেন মারপিটের শিকার হন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা পাল্টা ধাওয়া দেয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের। পরে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে এবং দক্ষিণ মাথায় জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ের সামনে জামায়াত-বিএনপির কর্মী সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। এতে উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন, নায়েবে আমির মহিউল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেন, আল মামুনসহ অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পরে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে, এর মধ্যে ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেন ও আল মামুনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারালে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন জানান, তিনি ও মহিউল ইসলাম তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু জানান, জামায়াতের নেতাকর্মীদের হামলায় প্রথম জখম হয় ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেন ও আল মামুন। পরবর্তীতে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হকের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে গাজী এনামুল হক বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীদের দুর্বল ভাববেন না। অনেকেই জামায়াতকে নির্মূল করতে গিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। সংসদে আমাদের প্রধানমন্ত্রী দলমত নির্বিশেষে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানালেন, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে ভিন্ন। চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে আমাদের নিরীহ কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। আমরা দুর্বল নয়, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের আটক ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে জনগণকে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি দেবে জামায়াতে ইসলামী।
মণিরামপুর থানার ওসি (তদন্ত) বদরুজ্জামান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো পক্ষ এখনও অভিযোগ করেনি। তবে গতকাল রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় পৌর শহরে দু'পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
প্রতিনিধি/এসএস