জেলা প্রতিনিধি
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে একজন গর্ভবতী নারীসহ মোট ছয়জন আহত হয়েছেন। গর্ভবতী নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—কাতারপ্রবাসী রানা মুন্সির গর্ভবতী স্ত্রী মেঘলা খানম (২৮), রানা মুন্সির চাচাতো ভাই শাহ জামাল মুন্সি (৪৫), আজাদ মুন্সি (৪২), রুবেল মুন্সি (৪০), লোটাস মুন্সি (৩৮) এবং তাদের মা, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর সালাম মুন্সির স্ত্রী শাহনারা বেগম (৭০)।
চিকিৎসাধীন আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের রানা মুন্সি ও তার চাচাতো ভাই ওবায়েদ মুন্সির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার এ বিরোধের জেরে ওবায়েদ মুন্সি ও তার সহযোগীরা প্রথমে প্রবাসী রানা মুন্সির স্ত্রী মেঘলা খানমকে মারধর করেন। অভিযোগ রয়েছে, তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করার উদ্দেশ্যে পেটে লাথি ও ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। এ সময় গর্ভবতী নারীকে রক্ষা করতে স্বজনরা এগিয়ে এলে সংঘবদ্ধভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত শাহনারা বেগমকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আহত মেঘলা খানম জানান, ওবায়েদ মুন্সির সঙ্গে তাদের জমির সীমানা নিয়ে মামলা চলছিল। আদালতে তিনবার রায় পাওয়ার পর গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। এর পরপরই ওবায়েদ মুন্সি প্রায় ৫০-৬০ জন লোক নিয়ে ফুলকুচি, রামদা ও গরু জবাইয়ের ছুরি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান।
তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা তার পেটে লাথি মারে এবং ইট দিয়ে আঘাত করে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা স্বজনদেরও রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। এছাড়া তার শাশুড়ি শাহনারা বেগমকেও মারধর করা হয়।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি মো. আইয়ুব আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিনিধি/টিবি