জেলা প্রতিনিধি
২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় শিলাবৃষ্টিতে জমির বোরো ধান নষ্ট হওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে সঞ্চিতা রানী সরকার (৫৫) নামে এক নারী আত্মহত্যা করেছেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) ভোর ছয়টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের হিজল গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ দেখতে পায় এলাকাবাসী। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
সঞ্চিতা রানী সরকার উপজেলার যাদবপুর গ্রামের পুরানহাটি এলাকার মৃত অনাথ সরকারের স্ত্রী।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সঞ্চিতা রানীর স্বামী অনাথ সরকার দীর্ঘ বছর আগে মারা গেছেন। তাদের সংসারে তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। আর ছোট এক মেয়ে ও এক মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে নিয়ে কষ্টে দিন যাপন করছিলেন সঞ্চিতা রানী। সম্পদ বলতে হাওরে ৮০ শতাংশ জমি রয়েছে তার। মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সেই জমিতে বোরো ধান রোপণ করেন সঞ্চিতা। আশায় ছিলেন ফসল তুলতে পারলে ছেলে মেয়েকে নিয়ে অন্তত দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা হবে। তবে কয়েকদিন আগে শিলাবৃষ্টিতে তার জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন সঞ্চিতা। আজ বুধবার ভোরে বাড়ির পাশে হিজল গাছ থেকে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় সঞ্চিতার লাশ দেখতে পায় এলাকাবাসী। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রথীন্দ্র সরকার বলেন, সঞ্চিতা খুবই অভাবগ্রস্ত। একমাত্র ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন। একটা মেয়েও রয়েছে তার। সম্পদ বলতে হাওরে ৮০ শতক জমি ছাড়া আর কিছু নেই। অনেক কষ্টে নিজেই সেই জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছিলেন। কয়েকদিন আগে শিলাবৃষ্টিতে জমির ধান নষ্ট হয়ে যায়। এতে ভীষণ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি। এই হতাশা থেকে থেকেই আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরউদ্দিন বলেন, সঞ্চিতা রানী খুবই অভাবগ্রস্ত ছিলেন। শিলাবৃষ্টিতে জমির ফসল নষ্ট হওয়ায় হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। এ বিষয়ে পরিবার ও গ্রামবাসী কারও কোনো অভিযোগ নেই। সুরতাল হাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে এলাকাবাসীর সুপারিশে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস