images

সারাদেশ

ঝালকাঠির চার এমপির তিনজনই নারী

জেলা প্রতিনিধি

২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম

বরিশাল বিভাগের চারটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি জেলার দুটি সংসদীয় আসনে ভোটে নির্বাচিত ও সংরক্ষিত নারী আসনে পাওয়া চার সংসদ সদস্যের তিনজনই নারী। এদের মধ্যে একজন নির্বাচিত, বাকি দু’জন নারী জনপ্রতিনিধি সংরক্ষিত অসনের। একজন পুরুষ সংসদ সদস্য নিয়ে ঝালকাটি জেলার বাসিন্দাদের পাওয়া চার জনের বাড়ি জেলার চার উপজেলায়। ফলে এখানকার নারী অধিকার নিশ্চিত, উন্নয়নের সমবন্টনসহ জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সংসদে আলাদা ভাবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অতীতে এলাকাভিত্তিক অনেক সমস্যা থাকলেও তা গুরুত্বসহকারে দেখা হতো না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এখন পৃথক সংসদ সদস্য হওয়ায় স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, নদী ভাঙন দূর অতীতের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা বাসিন্দাদের।

আরও পড়ুন

দুই মাস ধরে ইউএনও শূন্য নলছিটি, অতিরিক্ত দায়িত্বে চলছে প্রশাসন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে সংসদ সদস্য হয়েছেন রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় গ্রামের চল্লিশ কাহনিয়া গ্রামের বাসিন্দা বিএনপির রফিকুল ইসলাম। অন্যদিকে ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছেন নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা বিএনপির ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। ঝালকাঠি জেলার বাসিন্দারা দু’টি আসনে সরাসরি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াও দুটি আসন থেকেই আরও দুইজন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য পেয়েছেন। এর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্যের তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। সেই তালিকায় স্থান পেয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহিলা দলের সহ-সভাপতি জীবা আমিনা খান। ঝালকাঠি-২ আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী জীবার বাড়ি ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রামে। এদিকে ১১ দলের জোট থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে স্থান পেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মাহমুদা আলম। তার বাবার বাড়ি ঝালকাঠি-১ আসনের কাঁঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া গ্রামে। তিনি ঝালকাঠি-১ আসন থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েও পরে জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছিলেন।

ঝালকাঠি জেলায় পাওয়া চার জনপ্রতিনিধির মধ্যে তিন জনই নারী হওয়ায় এখানকার নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে সরকারের পক্ষ থেকে আরও সুবিধা পাবে বলে আশা প্রকাশ করছেন। রাজাপুরের ইন্দ্রপাশা গ্রামের বাসিন্দা হাফছা বেগম বলেন, নারী জনপ্রতিনিধিরাই নারীদের কষ্ট শতভাগ বুঝবে। একই এলাকার বাসিন্দা মাইনুল বলেন, চার উপজেলায় হওয়ায় উন্নয়নের সমবণ্টনের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। 

ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ হোসেন বলেন, বর্তমানে চারজন জনপ্রতিনিধি তাদের দাবি আদায়ে সংসদে পৃথকভাবে লড়বেন। এতে আশা করা যায়- এখানকার সংকট নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কারণে তা সরকারের নজরে সহজেই আসবে। এতে করে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান আরও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রতিনিধি/এসএস