জেলা প্রতিনিধি
২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ফয়জুল্লাহপুর এলাকায় উচ্ছেদ হওয়া দুই ভূমিহীন পরিবারকে পুনরায় বসবাসের সুযোগ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ভুক্তভোগী পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার এ সিদ্ধান্ত দেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে প্রশাসনের নির্দেশে বিচ্ছিন্ন থাকা বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে তাদের ভেঙে দেওয়া ঘরবাড়ি সংস্কার করে পূর্বের অবস্থায় বসবাসের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খাস জমি দখল নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আলাউদ্দিন সরদার ও রমা কুমার মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। সম্প্রতি উচ্ছেদের পর তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বিষয়টি শুনানি করে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বসবাসের অনুমতি দেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।
এদিকে, রোববার সকালে সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের উদ্যোগে ফয়জুল্লাহপুর মৌজার ঋষিপাড়া এলাকায় খাস জমির পরিমাপ ও জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত পরিচালিত এ কার্যক্রমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকা জমির পরিমাণ চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে কয়েকজন ব্যক্তির দখলে সরকারি খাস জমি থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। এর মধ্যে স্থানীয়ভাবে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মনিরুল ইসলাম মিনির জমির সীমানার মধ্যেও কিছু খাস জমি থাকার বিষয়টি পরিমাপে চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকায় আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির দখলে খাস জমি রয়েছে বলে প্রাথমিক জরিপে উঠে এসেছে। বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, তাদের উচ্ছেদের পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা রয়েছে। তারা দাবি করেন, দীর্ঘদিন বসবাসের পরও নির্দিষ্টভাবে তাদেরই উচ্ছেদ করা হয়েছে, অথচ আশপাশের অন্যান্য স্থাপনা অক্ষত রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে মনিরুল ইসলাম মিনি পূর্বে জানিয়েছেন, তিনি সরকারি খাস জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছিলেন এবং প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খাস জমি সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যাদের দখলে অবৈধভাবে সরকারি জমি রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে।
উচ্ছেদ হওয়া আলাউদ্দিন সরদার বলেন, ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ার পর পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে ছিলাম। এখন আবার থাকার সুযোগ পেয়েছি, এজন্য প্রশাসনের কাছে কৃতজ্ঞ। রমা কুমার মন্ডলও একই ধরনের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
প্রতিনিধি/টিবি