রোববার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

সাতক্ষীরায় প্রভাব খাটিয়ে উচ্ছেদ, খোলা আকাশের নিচে দুই পরিবার

জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫০ এএম

শেয়ার করুন:

Satkhira ucched
উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম। ছবি: ঢাকা মেইল

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নে সাংবাদিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে দুই ভূমিহীন পরিবারকে সরকারি খাস জমি থেকে উচ্ছেদ করার অভিযোগ উঠেছে। পহেলা বৈশাখের দিন (১৪ এপ্রিল) পরিচালিত এ উচ্ছেদ অভিযানের পর পরিবার দুটি খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। 
 
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের ঋষিপাড়ায় ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন ভ্যানচালক আলাউদ্দিন সরদার ও রমা কুমার মণ্ডল। তারা সরকারি খাস খতিয়ানের জমিতে বসতি গড়ে তুলেছিলেন। সম্প্রতি একই এলাকার বাসিন্দা এবং সাংবাদিক পরিচয়ধারী মনিরুল ইসলাম মিনি ওই এলাকার পাশের জমি কিনেছেন। এরপর থেকেই তিনি ওই জমির আশপাশের খাস জমি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন। 
 
ভুক্তভোগী আলাউদ্দিন সরদার বলেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন তিনি। কয়েক বছর আগে মনিরুল ইসলাম মিনি তাকে অন্যত্র সরে যেতে বলেন। এতে রাজি না হলে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশও দেওয়া হয়। 

899e0438-1594-4daa-a09c-450d768d64f7
উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম। ছবি: ঢাকা মেইল


 
আলাউদ্দিন অভিযোগ করেন, পহেলা বৈশাখের দিন সকাল ১১টার দিকে প্রশাসনের লোকজন এসে ১০ মিনিটের মধ্যে ঘরবাড়ি খালি করার নির্দেশ দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ উপস্থিত হলে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পক্ষের সহায়তায় ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় ঘরের মালামাল বাইরে ফেলে দেওয়া হয় এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
 
রমা কুমার মণ্ডল জানান, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জায়গায় বসবাস করছেন। তিনি দীর্ঘদিন আগে জমির বন্দোবস্তের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কোনো পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়াই তাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
 
অভিযান চলাকালে ভিডিও ধারণ করায় একাধিক ব্যক্তির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
 
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আশপাশে আরও পাকা স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেগুলো উচ্ছেদ না করে শুধু দুটি ভূমিহীন পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে প্রভাব খাটানোর বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম মিনি বলেন, তিনি এক বছর আগে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তার জমির মধ্যে খাস জমি থাকলে সরকার তা নির্ধারণ করবে।
 
ফিংড়ি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শেখ ফরিদ হাসান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযানে অংশ নেন।
 
অন্যদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কারও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
 
একজন অবসরপ্রাপ্ত ভূমি কর্মকর্তা বলেন, সরকারি খাস জমি থেকে উচ্ছেদের ক্ষেত্রে মানবিক দিক বিবেচনায় পুনর্বাসনের বিধান রয়েছে। তা অনুসরণ না করে উচ্ছেদ করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। 
 
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
উচ্ছেদের পর থেকে পরিবার দুটি খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। তাদের দাবি, দ্রুত পুনর্বাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।

প্রতিনিধি/ক.ম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর