images

সারাদেশ

নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজছেন রাজু

জেলা প্রতিনিধি

১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

নিভৃত টুনির চরের ছিন্নমূল পরিবারের বাসিন্দা রাজু আকন্দ (৪০)। একসময় তার বাপ-দাদা রেখে যাওয়া ৫ শতক জমিতে বসবাস করছিলেন। কিন্তু রাক্ষসী ঘাঘট নদী ধীরে ধীরে গিলে খাচ্ছে সেই বসতভিটা। এখন নদীর কিনার ঘেঁষা আধা শতক ভিটার বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঝুঁকিতে বসবাস করছেন রাজু।   

সম্প্রতি, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর মন্দুয়ার গ্রামের টুনির চর নামক স্থানে দেখা গেছে- রাজু আকন্দের জরাজীর্ণ বসবাসের এক করুণ দৃশ্য। যেকোনো মুহূর্তে তার একমাত্র ছাপড়া ঘরটি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

Gaibandha----

স্থানীয়রা বলছেন, ওই গ্রামের মৃত লিয়াকত আকন্দের ছেলে রাজু আকন্দ পেশায় একজন দিনমজুর। স্ত্রী ও ৩ সন্তান নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন তার। একদিন শ্রম বিক্রি না করলে পেটে খাবার জোটে না এই পরিবারে। যেন নুন আন্তে পান্তা ফুরায় অবস্থা। তপ্ত রোদ-বৃষ্টি আর শীত-কুয়াশা উপেক্ষা করে নদীর কিনারের একমাত্র ছাপড়া ঘরে প্রাণ ঝুঁকিতে বসবাস করছেন। সেইসঙ্গে নদীভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে রাজুদের। এ পরিবারটির এমনই জরাজীর্ণতা যে, তাদের নেই কোনো টিউবয়েল ও টয়লেট ব্যবস্থা। এসব চাহিদা পূরণ করতে হয় অন্যের বাড়িতে। সেখানে সহ্য করতে হয় নানা বঞ্চনা। এভাবে নদীর সঙ্গে সংগ্রাম করে কোনোমতে বেঁচে আছেন হতদরিদ্র পরিবারটি। এখন সরকারের কাছে মাথার গোঁজার ঠাঁই চাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি।

Gaibandha-

আরও পড়ুন

রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে সেতু ঢালাইয়ের সত্যতা মিলেছে

স্থানীয় আলম আকন্দ বলেন, ঘাঘট নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে এখানকার অনেক পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে। এখন রাজু আকন্দসহ বেশ কিছু পরিবার ভাঙন ঝুঁকিতে আছেন। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তা করা জরুরি।

Gaibandha--

ভুক্তভোগী রাজু আকন্দ কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, বাপের সব জমি নদীতে হারিয়ে এখন আধা শতক জমিতে ছাপড়া ঘরে বসবাস করে আসছি। এটিও যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হতে পারে। ইতোমধ্যে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ঘুরেও কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। এখন সকারের কোনো গুচ্ছগ্রামে বা খাস জমিতে আমাকে পুনর্বাসনের দাবি করছি।

এ বিষয়ে বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কাইয়ুম হুদা বলেন, টুনির চর এলাকার অনেক পরিবারই সর্বহারা হয়েছে। রাজুকে পুরাতন কোনো গুচ্ছগ্রামে বা খাস জমিতে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হবে।

প্রতিনিধি/এসএস