বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলায় একটি সেতু নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরপরই ঢালাই ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশুমি-করিমবাজার খালের ওপর রুহুল আমিনের বাড়ির সামনের সেই সেতুটি পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রকৌশলী। তখন তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও বিভিন্ন আলামত দেখে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, গত মঙ্গলবার ওই সেতুর ঢালাইয়ের সময় উত্তর পাশের শেষ অংশে রডের সঙ্গে বাঁশের কঞ্চি সংযুক্ত করে দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা।
স্থানীয়রা জানায়, দুশুমি-করিমবাজার খালের ওপর ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে পাঁচ ফুট প্রস্থের একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ শুরু হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ব্রিজের উপরিভাগে ৫ ইঞ্চি ঢালাই দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে মাত্র সাড়ে ৩ ইঞ্চি। এছাড়া ব্রিজের দৈর্ঘ্যে ৮ ইঞ্চি ও প্রস্থে ৬ ইঞ্চি পর পর রড দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ঠিকাদার দিয়েছেন ১ ফুট পর পর। এসব অনিয়ম দেখে এলাকাবাসী ঢালাইয়ের সময় বাধা দিলেও ঠিকাদার মাত্র ৫টি রড ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মঙ্গলবার ঢালাই সম্পন্ন করেন।
ব্রিজ দিয়ে যাতায়াতকারী হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা বলেন, ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা সরকারি কোনো নিয়ম তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছেমতো নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ব্রিজটি নির্মাণ করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক বলেন সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের সত্যতা আমরা পেয়েছি। সেতুর মূল কাঠামোটি বিগত অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের ১ শতাংশ অর্থায়নে নির্মিত হলেও ওপরের ঢালাই বাকি ছিল। এই অর্থবছরে ঢালাইয়ের আবেদন এলেও আমরা এখনো কোনো বরাদ্দ বা অনুমোদন দিইনি। স্থানীয় একজন ইউপি সদস্য নিজ উদ্যোগে এবং এলাকাবাসীর সহায়তায় এটি ঢালাই করেছেন। বাঁশ ব্যবহারের কারণে কাঠামোটি মজবুত হয়নি, তাই এটি ভেঙে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় নির্মাণ করা হবে। ভবিষ্যতে যারা এভাবে উপজেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা দাবি করেন, ‘বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে মূল ব্রিজের বাইরের অংশে। এটি আমি করিনি, স্থানীয়রা করেছে।’
অন্যদিকে, রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার জানান, ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণের প্রথম পর্যায়ে দেড় লাখ টাকা এবং সম্প্রতি ঢালাইয়ের জন্য এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল।
উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী এ প্রসঙ্গে জানান, ব্রিজ ঢালাইয়ের বিষয়টি এলজিইডি বিভাগকে কেউ জানায়নি। নিয়মানুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত না করে কোনোভাবেই ব্রিজের ঢালাই দেওয়ার সুযোগ নেই।
প্রতিনিধি/একেবি




