জেলা প্রতিনিধি
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
ইউটিউব দেখে ব্লাক রাইস চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন নড়াইলের কালিয়া উপজেলার রহমত আলী। তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের জোকা গ্রামের কৃষক রহমত আলী উত্তর অঞ্চল থেকে অনলাইনের মাধ্যমে এক কেজি ব্লাক রাইস ধানের বীজ সংগ্রহ করে পরীক্ষামূলকভাবে আবাদ শুরু করেন। তিনি প্রচলিত সাধারণ ধানের মতোই ১০ শতাংশ জমিতে চাষ করেন। চাষাবাদে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা, যা সাধারণ ধান চাষের মতোই।
রহমত আলী বলেন, আমি ইউটিউব ও বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক চ্যানেল দেখে ব্লাক রাইস চাষে উৎসাহিত হই। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করি। পরবর্তীতে উত্তর অঞ্চল থেকে অনলাইনে ব্লাক রাইসের বীজ সংগ্রহ করে চাষ শুরু করি। ধানের ফলনও খুব ভালো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ব্লাক রাইস পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এ কারণেই আমি এই ধান চাষে আগ্রহী হই। স্থানীয় অনেক কৃষক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তার আমার কাছ থেকে বীজ নিয়ে তারাও ব্লাক রাইস চাষ শুরু করতে চান।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম ব্লাক রাইস খেত পরিদর্শন করে জানান, ১০ শতাংশ জমিতে প্রায় ৫ থেকে সাড়ে ৫ মণ ধান উৎপাদন হতে পারে। বাজারে প্রতি মণ ব্লাক রাইস ধানের দাম সাড়ে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা, যা সাধারণ ধানের তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি। এতে করে অল্প জমিতেই উল্লেখযোগ্য লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষক রহমত আলীর এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরাও তার জমি দেখতে ভিড় করছেন। অনেকেই ব্লাক রাইস চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় এক কৃষক বলেন, আমি শুনতে পেরেছি যে এখানে ব্লাক রাইস ধান চাষ করা হয়েছে। আমি দেখতে আসছি। এই সম্পর্কে আমার টুক টাক ধারণা আছে। আমারও চাষ করার ইচ্ছা আছে। আমি এখান থেকে বীজ সংগ্রহ করে আগামীতে ব্লাক রাইস ধানের চাষ করব।
কালিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, রহমতের উৎপাদিত ধান থেকে বীজ সংগ্রহ করে এলাকায় এই নতুন ধানের (ব্লাক রাইস) চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, ব্লাক রাইস শুধু উচ্চমূল্যের ফসলই নয়, এটি স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। এতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে অ্যান্থোসায়ানিন, যা শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

কালিয়া উপ-সহকারী কৃষি অফিসার নাঈম শেখ বলেন, কৃষক শেখ রহমত আলী প্রথমে ব্ল্যাক রাইস চাষ সম্পর্কে জানতে আগ্রহ দেখান। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হলে তিনি অনলাইনের মাধ্যমে বীজ সংগ্রহ করে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে সফলভাবে চাষ করেন।
এ বিষয়ে কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ব্ল্যাক রাইস বিদেশি জাতের ধান। চাষে সঠিক পরিচর্যা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এছাড়া এর বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এখান থেকে ধান বীজ সংরক্ষণ করে আগামী বোরো মৌসুমে কালিয়া উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হবে।
প্রতিনিধি/এসএস